TMC

বিদ্রোহীদের নিয়ে বলতে কাল স্পিকারের কাছে অভিষেক

লোকসভার স্পিকার যদি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা সাংসদের এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার আবেদনে সিলমোহর দেন, তা হলে যে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাবে, আজ তার ইঙ্গিত মিলেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৮:০৪
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনার জন্য আগামী শুক্রবার সময় দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। লোকসভার সচিবালয় সূত্রের বক্তব্য, তৃণমূলের লোকসভার সংসদীয় দলে ভাঙন এবং ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া)-তে মিশে যাওয়ার আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা করার আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দু’পক্ষেরই বক্তব্য শুনে নিতে চাইছেন। সেই কারণে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হিসেবে অভিষেককে শুক্রবার বিকেল ৫টায় স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে।

লোকসভার স্পিকার যদি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা সাংসদের এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার আবেদনে সিলমোহর দেন, তা হলে যে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাবে, আজ তার ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ, আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেছেন, ‘‘কেউ এক দলের প্রতীকে জিতে এসে অন্য দলে যোগ দিতে পারে? তা হলে আর নির্বাচনের কী প্রয়োজন? কোনও সাংবিধানিক আইন এর নীতিগত অনুমতি দেয় না। এটা অসাংবিধানিক, অনৈতিক, বেআইনি। পরেরলড়াই আদালতে!’’

লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল পি ডি টি আচারি বলেন, ‘‘সাংসদরা অন্য দলে মিশে যেতে পারেন না। সংবিধানের দশম তফসিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দল অন্য দলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।’’

এনসিপিআই-তে মিশে গেলেও বিদ্রোহী সাংসদদের প্রধান মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এর পরে তৃণমূলের নাম, প্রতীক, তহবিলের দাবি নিয়ে লড়াই হবে। কিন্তু প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবের মতে, ‘‘এক জন ভিন্ন দলের সাংসদ কী ভাবে অন্য দলের নাম,প্রতীক, সম্পত্তির দাবি করতে পারেন? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী এই দাবি করতে পারে। কারণ, তাঁরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। তাঁদের এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা আদালতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।’’

গত রবিবার দলের বিদ্রোহী সাংসদরা যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে একজোট হয়েছিলেন, সে সময় অভিষেক স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়ে বলেছিলেন, ‘তৃণমূল একটাই, কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেবেন না।’ সোমবার স্পিকার তাঁকে ডেকে পাঠান। সে সময় অভিষেক ইডি-র দফতরে ছিলেন বলে অন্য কোনও দিন সময় চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন