West Bengal Government

প্রকৃত বিনিয়োগকারী বাছতে কমিটি রাজ্যের, টাটা-আশ্বাস শুভেন্দুরও

এ বার প্রকৃত বিনিয়োগকারী বাছতে কমিটিও গড়তে চলেছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর উপলক্ষে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে শুক্রবার এমনটা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৭:৪১
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

দলের ‘সঙ্কল্প পত্রে’ রাজ্যে শিল্প-পুনরুজ্জীবনের বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে সেই শিল্পায়নের বার্তা জোর গলায় বলার সঙ্গে, এ বার প্রকৃত বিনিয়োগকারী বাছতে কমিটিও গড়তে চলেছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর উপলক্ষে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে শুক্রবার এমনটা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের পরে এ বার মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, টাটা শিল্প-গোষ্ঠীকে রাজ্যে তাঁরা ফেরাবেনই।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেছেন, “আমাদের কাছে প্রচুর শিল্প বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প-সচিবের নেতৃত্বে বিশেষ দল ঝাড়াই-বাছাই করছে।” বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তাঁর সংযোজন, “যাঁরা বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক, আমরা তাঁদের নজরে রাখছি। তাঁরা শুধুই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফুল হাতে ছবি তুলতে চাইছেন, না কি সত্যিই বাংলার জন্য কিছু করতে চাইছেন, তা বুঝে নিতে হবে।” এই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যিনি বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তাঁর নামে জমি জবরদখল, টাকা নয়ছয়-সহ অন্য অভিযোগ আছে কি না, তা-ও দেখা হবে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “টাটাকে এখানে আনব আমরা। সিঙ্গুরের জমি এখন সরকারের হাতে নেই। বর্তমান জমি মালিকেরা সেখানে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ওই মাটির সঙ্গে টাটার রড, সিমেন্ট মিশে রয়েছে। মাটির প্রকৃতি বদলে গিয়েছে।” আগামী পাঁচ বছরে মুখ্যত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের উপরে ভর করেই পশ্চিমবঙ্গকে দেশের প্রথম তিন রাজ্যের মধ্যে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী-সহ সরকার এবং শাসক দলের শীর্ষ স্তর থেকে বার বার টাটাকে রাজ্যে ফেরানোর বার্তায় বহু লগ্নিকারী আশ্বস্ত হয়ে আবার বিনিয়োগের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নিতে পারেন বলে মনে করছে শিল্প মহলের একাংশ। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার একে ‘অত্যন্ত সময়োপযোগী’ বলেছে। বণিকসভা জানিয়েছে, রাজ্যের শিল্প-ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবনের জন্য টাটার মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর এখানে বড় অঙ্কের লগ্নি করা সত্যিই খুব দরকার। মোদী সরকারের ১২ বছর উপলক্ষে সারা দেশে যে কর্মসূচি হচ্ছে, এ দিন তারই অংশ হিসাবে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্য দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ইউপিএ আমলের থেকে এনডিএ সব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাড়তি বরাদ্দ করেছে।

গত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ‘বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে’র (বিজিবিএস) নামে সরকারি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগেও এ দিন সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। শুধু তদন্ত নয়, মামলা করব। প্রয়োজনে আর্থিক তছরুপের যাঁরা তদন্ত করেন, তাঁদের দায়িত্ব দেব। আমরা ছাড়ব না!” একই সঙ্গে, বিজিবিএস-এর প্রচারে ৬৩৫ কোটি টাকা ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে, সেই বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস। শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, “আমি দফতরেরর সচিব-সহ শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি। তাঁরা আগামী সপ্তাহে আমাকে পূর্বতন সরকারের আমলে হওয়া বিজিবিএস নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন। সম্মেলনে কত টাকা লগ্নির প্রস্তাব এসেছে, কোন প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে, কোনটা হয়নি, যেগুলি হয়নি, সেগুলির অবস্থা কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুন