Electricity Reform

বিদ্যুৎ সংস্কারে পদক্ষেপ

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নানা সংস্কারের একাংশ বকেয়া ছিল বিগত সরকারের আমলে। এ দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, জুলাই থেকে রাজ‍্যে আবার স্মার্ট মিটার লাগানো চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে ২ কোটি মিটার লাগানো হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৮:৫২
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

রাজনৈতিক পালাবদলের পরে পশ্চিমবঙ্গকে সঙ্গে নিয়েই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারের পথে হাঁটার বার্তা দিল কেন্দ্র। শনিবার প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে বৈঠকের পরে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, আবাসন এবং নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর জানান, মেট্রো-পরিকাঠামো-সহ নগরোন্নয়ন ক্ষেত্রেও বেশ কিছু প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নানা সংস্কারের একাংশ বকেয়া ছিল বিগত সরকারের আমলে। এ দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, জুলাই থেকে রাজ‍্যে আবার স্মার্ট মিটার লাগানো চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে ২ কোটি মিটার লাগানো হবে। পরের ধাপে আসবে প্রি-পেড স্মার্ট মিটার। প্রথমে সরকারি দফতর, আবাসন, বাণিজ‍্যিক গ্রাহক, শিল্প সংস্থায় এই মিটার বসবে। ক্রমে বড় গ্রাহক এবং সাধারণের জন্য এই সুবিধা চালু হবে।

রাজ‍্যে সাধারণ গ্রাহক-সহ মোট ১.৩ লক্ষের বেশি স্মার্ট মিটার ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে। কিন্তু সর্বস্তরে বিরোধিতায় গত বছর জুন থেকে গৃহস্থের বাড়িতে স্মার্ট মিটার লাগানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আপাতত কেন্দ্র প্রতিটি মিটার বাবদ ৯০০ টাকা ভর্তুকি দেবে। বাকিটা গ্রাহক প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে মেটাবেন। প্রি-পেড স্মার্ট মিটার না নিলে গ্রাহক তিন মাসের সিকিয়োরিটি ডিপোজিট জমা দিয়ে এই মিটার নিতে পারেন। সেখানে বিদ‍্যুৎ ব‍্যবহারের আগে আর টাকা দিতে হবে না। গ্রাহক সুবিধামতো যে কোনও একটি বাছতে পারেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারি ক্ষেত্র থেকে বকেয়া ৮০০ কোটি টাকা আগামী ২-৩ মাসের মধ‍্যে জমা হয়ে যাবে বলে আশা। এই বকেয়া যাতে না থাকে সেই কারণেই স্মার্ট মিটার লাগানো হচ্ছে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের কত চাহিদা হবে, তাতে সৌর, তাপ, জল ইত্যাদি শক্তিক্ষেত্রকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তার সমীক্ষা হবে। তা আগামী দু’মাসের মধ্যে হয়ে যাবে বলে আশা তাঁর। সরকারের লক্ষ্য, আগামী দিনে ব্যাটারি চালিত গাড়ি, ডেটা-সেন্টার ইত্যাদি শিল্পের দিকে তাকিয়ে অপ্রচলিত শক্তির প্রয়োগ বাড়ানো। কেন্দ্রের ‘সূর্য ঘর যোজনার’ আওতায় রাজ‍্যের দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষ এবং দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের আনার চেষ্টা হবে। এ নিয়ে রাজ্যের একটি প্রতিনিধিদল শীঘ্রই দিল্লি যাবে। এখানে কেন্দ্রের ভর্তুর্কির সর্বোচ্চ অঙ্ক ৭৮ হাজার টাকা। রাজ‍্যকেও গ্রাহকদের অতিরিক্ত কিছু সহায়তা করার আর্জি এ দিন শোনা যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গলায়। আগামী দু’মাসের মধ‍্যে বিদ‍্যুৎ মাসুল নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

এ দিন বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, পশ্চিমবঙ্গে আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি, এ বার কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের মধ্যে জনসংখ্যার শহরগুলিতে মেট্রো পরিষেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে সমীক্ষা হবে। মুখ্যমন্ত্রীও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সেই নির্দেশ দিয়েছেন। ‘আর্বান চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। তার মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা করে দেবে কেন্দ্র এবং রাজ্য। বাকিটা আসবে বিভিন্ন মাধ্যমে ধার হিসাবে। ছোট ও মাঝারি পুরসভাগুলিও এই তহবিলের সুবিধা যাতে পায়, তার অনুরোধ করেছে রাজ্য। এ দিন স্বচ্ছ অ্যাপের উদ্বোধন হয়। আসানসোল, দুর্গাপুর, বসিরহাট, পূজালি, নৈহাটি, তুফানগঞ্জ, কাঁথি, কৃষ্ণনগর, বৈদ্যবাটি এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভায় প্রাথমিক ভাবে চালু হচ্ছে তা। এলাকায় জমে থাকা জঞ্জালের ছবি তাতে আপলোড করলেই ১০ মিনিটের মধ্যে পরিষ্কার হবে বলে দাবি। স্বচ্ছ ভারত সর্বেক্ষণ এবং ধাপা এলাকাগুলির ক্ষেত্রেও সুসংহত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয় এ দিন।

আরও পড়ুন