দিলীপ ঘোষ। — ফাইল চিত্র।
গোটা দেশে কাল থেকে শুরু হতে চলেছে ভিবি জি রাম জি প্রকল্প। মনরেগার পরিবর্তে আনা ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ পঞ্চায়েত কর্মীদের সাহায্য ছাড়া রূপায়ণ করা মুশকিল। পশ্চিমবঙ্গে জনরোষে কাজে আসছেন না অন্তত দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মী। তাই ৫ জুলাই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই সব পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আজ একই দিনে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর থেকেই জনরোষের কারণে বহু পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানের দফতরে আসা বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান-উপপ্রধানেরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। পঞ্চায়েত দফতর জানিয়েছে, এই অনুপস্থিতির ফলে আগামিকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ভিবি জি রাম জি প্রকল্পের রূপায়ণ সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ ওই প্রকল্পের জন্য জব কার্ড থেকে শুরু করে কী প্রকল্পের কাজ অনুমোদন পাবে তা নির্ভর করছে স্থানীয় পঞ্চায়েতের ছাড়পত্রের উপরে। তাই পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান অনুপস্থিত থাকলে সামগ্রিক ভাবে প্রকল্প রূপায়ণে সমস্যা হতে পারে। সেই সমস্যা মেটাতে এবং পঞ্চায়েত প্রধানদের কাজে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে ভরসা দিতেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ দিলীপ বলেন, ‘‘৫ জুলাই ওই বৈঠক হবে। প্রায় দু’হাজারের কাছাকাছি প্রধান, উপপ্রধান, কর্মী জনরোষের ভয়ে কাজে আসছে না। ফলে রাজ্য সরকারের সমস্যা হচ্ছে।’’
আজ দিল্লি সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন দিলীপ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বলেন, একাধিক রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দফতরগুলি ইতিবাচক প্রকল্প রূপায়ণ করে স্থানীয় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ওই ধরনের প্রকল্পগুলি সেই সব রাজ্যে গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসার জন্য দিলীপকে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া অর্থ নিয়ে কথা হয় দু’জনের। সূত্রের মতে, নির্মলা বৈঠকে দিলীপকে বলেন, একাধিক স্বল্প বাজেটের প্রকল্প রয়েছে কেন্দ্রের। যা পাওয়ার জন্য গত সরকার কোনও আগ্রহ দেখায়নি। তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্য বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনা জমা দিলেই কেন্দ্র অর্থ ছেড়ে দেবে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দিলীপ।