Supreme Court on SIR

এসআইআরে তথ্যগত অসঙ্গতি কাদের? তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে, নথি জমা নিলে দিতে হবে রসিদও: সুপ্রিম কোর্ট

তথ্যগত অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে এসআইআরের শুনানিতে তলব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। সোমবার সেই মামলার শুনানিতেই আদালত তালিকা প্রকাশ-সহ একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৭
এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এমনটাই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রকাশ্যে ওই সংক্রান্ত তালিকা টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে। শুনানিতে কারও কাছ থেকে নথি গ্রহণ করা হলে তার রসিদও দিতে হবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে, জানিয়েছে আদালত।

Advertisement

কমিশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের শুনানির জন্য তলব করা হবে। পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৪ লক্ষে। সেই তালিকা ধরেই ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তৃণমূল-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। কোন যুক্তিতে এই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে আনার দাবিও তুলেছিলেন তিনি। তৃণমূলের তরফে এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল সোমবার। সেখানেই তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হল। শুনানি চলাকালীন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে বুথ স্তরের এজেন্টদের থাকতে দেওয়ার যে দাবি তৃণমূল তুলেছিল, তা-ও মেনে নিয়েছে আদালত।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে। প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানেই সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে এবং তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি জানাতে পারবেন। এই সমস্ত দফতরের শুনানিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নথি জমা নিলে তার জন্য আলাদা রসিদ দিতে হবে ভোটারকে। নথির প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে লিখিত ভাবে। এ ছাড়া, পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্যকে যথাযথ পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী দিতে হবে। তাঁরা পঞ্চায়েত ভবন এবং ব্লক অফিসে বসে ভোটারদের কথা শুনবেন। প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে মানতে হবে। কোনও ভোটার চাইলে প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি জমা দিতে পারবেন। সেই প্রতিনিধি হতে পারেন যে কোনও দলের বিএলএ, পরিবারের সদস্য অথবা অন্য কেউ, যাঁকে ভোটার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে এবং তাতে সংশ্লিষ্ট ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কমিশন এবং বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের সভাস্থল থেকে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির এসআইআর গেম ওভার। তৃণমূলের দাবি মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এজেন্টদেরও শুনানিকেন্দ্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এক কোটি নামকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেটা বেঁচে গেল। এই জয় বাংলার মানুষের জয়।’’

Advertisement
আরও পড়ুন