Supreme Court on Mukul Roy

মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজ করার রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট! শুভেন্দু এবং বিধানসভার স্পিকারকে নোটিস

মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুলের পুত্র শুভ্রাংশু রায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৬
মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুলের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সঙ্গে এই মামলায় বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়কে নোটিস জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের হলফনামা জমা দিতে হবে।

Advertisement

শীর্ষ আদালতে মুকুলের পুত্রের মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুকুল দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। সক্রিয় রাজনীতি থেকে তিনি এখন অনেক দূরে। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত হাই কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল। জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।তবে বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুল খাতায়কলমে বিজেপি বিধায়ক হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিজেপি এ বিষয়ে অভিযোগ জানালে স্পিকার জানিয়ে দিয়েছিলেন, মুকুল বিজেপিতেই আছেন। তাই তাঁর পদ খারিজ করা যাবে না। এমনকি, তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। সাধারণত, ওই পদে বিরোধী দলের সদস্যকে বসানো হয়। এর পরেই মুকুলের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে মামলা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

গত ১৩ নভেম্বর দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুলের বিধায়কপদ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধির পদ আদালত খারিজ করতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নিয়ম অনুযায়ী এই ক্ষমতা রয়েছে বিধানসভার স্পিকারের। মুকুলের মামলায় স্পিকার জানিয়েছিলেন, বিধায়কের দলত্যাগ নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন। তাই পদ খারিজ করতে পারছেন না। দীর্ঘ দিন মামলাটি ঝুলে থাকায় হাই কোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় এবং মুকুলের বিধায়কপদও বাতিল করে দেয়।

মুকুলের পুত্র শুভ্রাংশু এখন তৃণমূলে। বাবার সঙ্গেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। হাই কোর্ট মুকুলের বিধায়কপদ খারিজ করে দিলে তার বিরুদ্ধে শুভ্রাংশু সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। শুক্রবার সেই মামলাতেই হাই কোর্টের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement
আরও পড়ুন