1993 Bowbazar Blast

বৌবাজার বিস্ফোরণে সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, জারি করা হল নোটিস

দিল্লি হাই কোর্ট সম্প্রতি রশিদের কারামুক্তির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। এ বার তাঁর জেলমুক্তির উপর স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৬:০৩
বউবাজার বিস্ফোরণে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রশিদ খান।

বউবাজার বিস্ফোরণে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রশিদ খান। — ফাইল চিত্র।

১৯৯৩ সালের বৌবাজার বিস্ফোরণের অন্যতম আসামি রশিদ খানের কারামুক্তির উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৌবাজার বিস্ফোরণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় রশিদকে। ইতিমধ্যে ৩৩ বছর সংশোধনাগারে কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর কারামুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল। এ বার ওই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করল শীর্ষ আদালত।

Advertisement

১৯৯৩ সালের ১৫ মার্চ কলকাতার বৌবাজারের একটি বাড়িতে মজুত বোমায় বিস্ফোরণ হয়েছিল। বাড়িটি ছিল সাট্টা ডন রশিদের। ওই ঘটনায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জখম হন অনেকে। বিস্ফোরণে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় রশিদ-সহ বেশ কয়েক জনকে। সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ আইন (টাডা)-এ মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে বিশেষ আদালত (টাডা কোর্ট) তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও একই রায় বহাল রাখে।

সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর কারামুক্তির নির্দেশ দিলে তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চে রাজ্যের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে দুই বিচারপতির বেঞ্চ দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নোটিস পাঠানো হয়েছে রশিদকেও।

রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু। লাইভ ল’ অনুযায়ী, যে বিস্ফোরণ মামলায় ৭০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন— এমন একটি মামলায় ‘সংস্কারমূলক ভাবনার’ উপর ভিত্তি করে হাই কোর্টের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্য দিকে রশিদের আইনজীবী এমআর সামশাদ জানান, তাঁর মক্কেল ৩৩ বছরেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়েছেন। মামলায় অপর অভিযুক্ত পান্নালাল জয়সওয়ারাকে যে ২০১৪ সালেই মুক্তি দেওয়া হয়, সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অপরাধের ক্ষেত্রে উভয়ের ভূমিকা আলাদা ছিল। রশিদই ছিলেন মূল অভিযুক্ত।

জেলে থাকাকালীন রশিদের ভাল আচরণের কথাও আদালতে তুলে ধরেন তাঁর আইনজীবী। তবে সুপ্রিম কোর্টের মতে, তাঁকে এমন একটি অপরাধের জন্য সাজা দেওয়া হয়েছে যা ‘প্রায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের’ শামিল। রশিদের শারীরিক অসুস্থতার কথাও উল্লেখ করেন আইনজীবী। জানান, তাঁর মক্কেলের বিভিন্ন রোগ আছে। একটি চোখে ভাল দেখতে পান না। সেই আর্জিও এ পর্বের শুনানিতে টেকেনি আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, হাই কোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ না দিলে রাজ্য সরকারের আবেদনটিই গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।

প্রসঙ্গত রশিদ টাডা আইনে অভিযুক্ত। এই আইনের আওতায় আসামিদের মুক্তি দিতে হলে কেন্দ্রের অনুমোদন লাগে। সেই প্রক্রিয়াটি বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনাধীন থাকায় ২০২১ সালে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন রশিদ। গত ৫ জুন দিল্লি হাই কোর্ট রশিদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। লাইভ ল’ অনুযায়ী, ওই মামলায় দিল্লি হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, সাজার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন। সেই কারণে সংশোধনাগারে থাকাকালীন একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির ভিতর থেকে ভাল মানুষকে পুনরায় বের করে আনার চেষ্টা চালানো উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন