লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ডে মৃত অনামিকা এবং নীলেশ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নভেম্বরে ওঁদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। দুই পরিবারের মধ্যেও একপ্রস্ত কথা হয়েছিল সম্প্রতি। কিন্তু লখনউয়ের কোচিং সেন্টারের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল দু’জনেরই। ওঁরা দু’জন হলেন অনামিকা সামন্ত (২৭) এবং নীলেশ কুমার (২৮)। এই দু’জন-সহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ওই ঘটনায়।
অনামিকা কলকাতার মেয়ে। কর্মসূত্রে তিনি লখনউয়ে থাকতেন। যে সংস্থায় তিনি চাকরি করতেন, সেখানেই নীলেশ ছিলেন তাঁর সহকর্মী। কর্মসূত্রে নীলেশের সঙ্গে আলাপ অনামিকার। তার পর তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এই সম্পর্কের কথা জানার পর চারহাত এক করতে সম্মত হয় দুই পরিবার। গত সপ্তাহেই নীলেশের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে কলকাতা থেকে লখনউ গিয়েছিলেন অনামিকার বাবা-মা।
নীলেশের দাদা অভিষেক কুমার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে বলেন, ‘‘অনামিকার বাবা-মা গত সপ্তাহেই আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে। পরের সপ্তাহে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল আমাদেরও। নভেম্বরে বিয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল অনামিকা এবং নীলেশের। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।’’ অনামিকা এবং নীলেশ দু’জনেই গেম ডেভেলপমেন্ট, থ্রিডি আর্টের কাজ করতেন। তাঁরা তিন বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন। নীলেশের দাদা অভিষেক বলেন, ‘‘ওঁদের দু’জনের সম্পর্কের কথা বেশ কিছু সময় আগে আমরা জানতে পেরেছিলাম। তার পর আমাদের পরিবার ঠিক করেছিল যে, অনামিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। লখনউয়ে অনামিকার বাবা-মাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত সপ্তাহেই অনামিকার বাবা-মা, ভাই-সহ পরিবারের চার জন আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। বিয়ের কথাবার্তাও হয় দুই পরিবারের।’’
জানা গিয়েছে, যে কোচিং সেন্টারে আগুন লেগেছিল, তার তিনতলায় ছিল অনামিকা-নীলেশদের সংস্থার স্টুডিয়ো। ঘটনাচক্রে, সোমবার তিনতলাতেই আগুন লাগে।
নীলেশের পরিবার জানায়, এই দুর্ঘটনার কথা তাঁরা জানতেন না। সোমবার সন্ধ্যায় মর্গ থেকে ফোন আসে। তার পরই তাঁরা জানতে পারেন মৃত্যু হয়েছে নীলেশের। অনামিকা তিন বছর ধরে লখনউয়ের একটি সংস্থায় কাজ করতেন। তাঁরা দুই ভাইবোন। বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত, মা সুলেখা সামন্ত। নীলেশরা চার ভাইবোন।
প্রসঙ্গত, সোমবার লখনউয়ের আলিগঞ্জে একটি কোচিং সেন্টারে আগুন লাগে। চারতলা ওই ভবনের একেবারে উপরের তলায় ছিল কোচিং সেন্টার। তিনতলায় ছিল একটি গেম ডেভেলপমেন্টর সংস্থার অফিস। সেই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পড়ুয়া। ইতিমধ্যেই সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। কোচিং সেন্টারটিকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে চার জনকে।