Lucknow Coaching Centre Fire

অনুমোদিত পরিমাণের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হত লখনউয়ের ভবনে! মাত্রাতিরিক্ত চাপই কি কোচিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্য কারণ?

প্রশ্ন উঠছে, বেশ কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার লক্ষ করা হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে এ-ও রয়েছে, ওই বিল্ডিংয়ের কর্তৃপক্ষের তরফে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সীমা বৃদ্ধি করার জন্য কোনও আবেদন করা হয়েছিল কি না?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৫:৪৪
Building exceeded power load limit for months

লখনউয়ে ভস্মীভূত কোচিং সেন্টারে তদন্তকারীরা। ছবি: পিটিআই।

বসতবাড়ি পাল্টে বাণিজ্যিক ভবন হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও বেড়ে যায়। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমতি ছিল, তার থেকে বেশি ব্যবহার হয়। লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে এটাই প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। আরও অনুমান, অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহারের কারণেই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংয়ে ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমোদন ছিল। তবে নথি খতিয়ে দেখা যায়, জুন মাসে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে ৩৪.১ কিলোওয়াটে পৌঁছে যায়, যার ফলে ওই বিল্ডিংয়ের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোও তদন্তের আওতায় চলে এসেছে।

শুধু জুন মাস নয়, বিগত কয়েকটি মাসে ওই বিল্ডিংয়ে কী পরিমাণ বিদ্যুতের ব্যবহার হয়েছে, তা নথি দেখে যাচাই করা হচ্ছে। এপ্রিল মাসে ওই ভবনে ২৪.৩ কিলোওয়াট ব্যবহার হয়েছিল। পরের মাসগুলিতে তা আরও বেড়ে যায়। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, অনুমোদিত সীমার বাইরে নিয়মিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে ওই ভবনের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর উপর চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। শুধু তা-ই নয়, অতিরিক্ত গরমও বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর চাপের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

প্রশ্ন উঠছে, বেশ কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার লক্ষ্য করা হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে এ-ও রয়েছে, ওই বিল্ডিংয়ের কর্তৃপক্ষের তরফে বিদ্যৎ ব্যবহারের সীমা বর্ধিত করার জন্য কোনও আবেদন করা হয়েছিল কি না? কোনও নোটিস জারি হয়েছিল কি?

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত কাগজে ১৯১১ সালের ১ জানুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। কেন এমন উল্লেখ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীরা এ-ও যাচাই করে দেখছেন, ওই ভবনের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ছিল কি না? যদি ছাড়পত্র থাকে তবে তা নিয়মিত পুনর্নবীকরণ করা হত কি না!

সোমবার লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় উষা মেহতা মার্গে একটি কোচিং সেন্টারে আগুন লাগে। তাতে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরই ওই তিনতলা ভবনে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। লখনউ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এলডিএ)-র নথি এবং লখনউ পুরসভায় জমা পড়া গৃহ করের নথি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে অনুমোদন ছিল না। একটি আবাসিক ভবন হিসাবে সেটির নকশা অনুমোদিত হয়েছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ওই ভবনের এক মালিকও রয়েছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন