West Bengal Assembly Election 2026

ব্যক্তি মমতাকে নিশানা নয়, পদ্ম-কৌশল

বিজেপি সূত্র বলছে, একাধিক কারণে আসন্ন নির্বাচনের প্রচারের পরিকল্পনা পাল্টানোর কথা ভাবা হয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে শাসক শিবিরকে নিশানা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত আক্রমণ শানানোয় হিতে বিপরীত হয়।

অনমিত্র সেনগুপ্ত
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩০
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানালে লাভের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। তাই অতীতের নির্বাচনগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে এ যাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পরিবর্তে দল গত দেড় দশকে তৃণমূলের ব্যর্থতা, দলীয় নেতাদের দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবর্তিত বাংলার ইতিবাচক স্বপ্ন ফেরি করার কৌশল নিয়েছে।

বিজেপি সূত্র বলছে, একাধিক কারণে আসন্ন নির্বাচনের প্রচারের পরিকল্পনা পাল্টানোর কথা ভাবা হয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে শাসক শিবিরকে নিশানা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত আক্রমণ শানানোয় হিতে বিপরীত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রমণের মাত্রা শালীনতা ছাড়িয়ে যায়। যা আদৌ ভাল ভাবে নেননি বাংলার মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা ঢেলে ভোট দেন মমতাকে। জেতার আশা শেষ হয়ে যায় বিজেপির। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘২০২১ সালের নির্বাচনের সময়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পায়ে চোট পান মমত। পায়ে প্লাস্টার করা হয় তাঁর। মমতার ওই প্লাস্টার করা পা নিয়ে কুকথার বন্যা ছোটান দলের কিছু নেতা, যা ভাল ভাবে নেননি বাংলার মানুষ।

দলের বিশ্লেষণ, সে সময়ে ভোট প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুর করে ‘‘দিদি ও দিদি’’ বলে যে খোঁচা দিয়েছিলেন, তা-ও বুমেরাং হয়েছিল। যে কারণে এ যাত্রায় মমতার বিরুদ্ধে ব্যক্তি আক্রমণের প্রশ্নে সতর্ক অবস্থান নিয়ে এগোনোর কৌশল নিয়েছে দল। রাজ্যের দায়িত্বে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘‘প্রশাসক হিসাবে মমতার ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে ব্যক্তি মমতার গ্রহণযোগ্যতা যে রয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনও স্থান নেই। হতে পারে তাঁর আত্মীয়েরা গত দেড় দশকে বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছেন, কিন্তু তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও নিজের জীবনযাত্রার মান আজও এক রেখে দিয়েছেন মমতা।’’ তবে দলের অন্যান্য নেতার জন্য মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয় এই ফরমান দেওয়া হলেও, বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক সম্পর্ক, তাতে শুভেন্দু কতটা গন্ডির মধ্যে থেকে আক্রমণ শানাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলের মধ্যেই। পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, অতীতে মমতার বিরুদ্ধে কুকথা বলায় বিজেপি নেতারা রেকর্ড করেছিলেন। এ বারেও পরিস্থিতি পাল্টাবে বলে মনে হয় না। বিজেপির মতো দল হঠাৎ করে চরিত্র কী করে বদলাবে!বিজেপি শিবিরের মতে, দীর্ঘ বাম ও তৃণমূলের শাসনের পরে বাংলার মানুষ পট পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই আবহে নেতিবাচক প্রচারের পরিবর্তে বাংলার মানুষকে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো অনেক বেশি জরুরি। বিজেপির এক নেতার কথায়, “দল প্রচারে অবশ্যই তৃণমূলের আমলে হওয়া একের পর এক দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, শিল্পায়নে ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো বিষয়গুলি তুলে ধরবে।” গত কালই বিজেপির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি নিতিন নবীন সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন দেশের সীমান্ত এলাকায় কী ধরনের সমস্যা ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে বিজেপিকে বিশদে প্রচারে নামার উপরে জোর দিয়েছেন। জনবিন্যাস পাল্টে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কতটা জরুরি, তা-ও পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রচারের উপর জোর দিয়েছেন তিনি। বিজেপি বলছে, প্রচারে এই বিষয়গুলি তো থাকবেই। কিন্তু গত পাঁচ দশকে কী হয়নি, তা নিয়ে অতীতকে না খুঁচিয়ে পরিবর্তে ‘ডবল ইঞ্জিনে’র সরকার এলে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, রাজ্যে সেই ছবিটি তুলে ধরা দরকার। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, যুব সমাজের কাছে উন্নয়নমুখী বাংলার ছবি তুলে ধরা অনেক বেশি জরুরি।

আরও পড়ুন