Teachers Protest

বাড়ছে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, ফের জমায়েতে চাকরিপ্রার্থীরা

আর্যভট্ট খান
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৭:২৬
মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির নীচে নতুুন ভাবে জমছে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়।

মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির নীচে নতুুন ভাবে জমছে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। ছবি: সুমন বল্লভ।

চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের দাবিতে এক সময়ে সরব ছিল ময়দানে মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশ। কিন্তু ফল না মেলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সোমবার দুপুরের পরে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে ফের সেখানে ভিড় জমতে শুরু করেছে চাকরিপ্রার্থীদের।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষণা করেছেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হচ্ছে। সেই ঘোষণা কিছুটা হলেও আশা জাগিয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মনে। তবে তাঁদের একাংশের প্রশ্ন, মাসের পর মাস আন্দোলন করতে করতে যে সব যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁরাও কি নিয়োগের সুযোগ পাবেন? চাকরিপ্রার্থীরা জানাচ্ছেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকার সময়ে শুভেন্দু তাঁদের মঞ্চে এসে আশার কথা শুনিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। এ বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সত্যিই তিনি পাশে আছেন কি না, তা বোঝা যাবে।

যেমন মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশে আন্দোলনরত, ২০১৪ প্রাইমারি টেট পাশ ট্রেন্ড নন-ইনক্লুডেড প্রার্থী একতা মঞ্চের প্রার্থীদের দাবি, তাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আগের শাসক দলের দুর্নীতির জেরে আজ পথে বসে আছেন। শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের নিয়োগ হয়নি। এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘‘আমরা আরটিআই করে জানতে পেরেছি, এখনও ৩৯২৯টি শূন্যপদ রয়েছে। অথচ আমাদের মতো যোগ্যদের নিয়োগ হচ্ছে না।’’ আর এক চাকরিপ্রার্থী অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, ‘‘নিয়োগ না হওয়ায় আমাদের অনেকেরই বয়স ৪০ পেরিয়ে গিয়েছে। তবে আজকের ঘোষণায় ফের ভিড় বাড়ছে। যাঁদের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁরা আশায় বুক বেঁধে এই মঞ্চে এসেছেন।’’

ইন্টারভিউ বঞ্চিত উচ্চ প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীদের মঞ্চেও এ দিন জমায়েত বেড়েছে বলে দেখা গেল। সেখানে এক চাকরিপ্রার্থী সোমা মাইতি বলেন, ‘‘আমরা পরীক্ষায় পাশ করেছি। কিন্তু গেজেট আপডেট না হওয়ায় ইন্টারভিউ থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছি। নতুন সরকার যদি সিট আপডেট করে আমাদের ইন্টারভিউয়ের সুযোগ করে দেন, তা হলে অনেকেরই নিয়োগ হবে। যাঁদের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদেরও নিয়োগ হবে।’’

এ দিন মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশে জমায়েত বাড়তে থাকায় নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ওই জায়গাতেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চও। সেখানে এক চাকরিপ্রার্থী সুশান্ত ঘোষ বললেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত আট দফায় আমাদের ১২,৭২৩ জনের নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এখনও ১,২৪১ জনের নিয়োগ বাকি। নতুন সরকার আসার পরে কী এ বার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে?’’

২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) পুরো প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে ফের যে এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে, তাতে নতুন করে বসার সুযোগ পাননি বহু পরীক্ষার্থী। কারণ, তাঁদের পরীক্ষা দেওয়ার বয়স ৪০ পেরিয়ে গিয়েছে। তাই এ দিনের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় আশায় বুক বাঁধছেন অনেকে। যেমন, ২০১৬ সালের নবম-দশমের অপেক্ষমাণ পরীক্ষার্থী অনুপকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘২০১৬ সালে আমার বয়স ছিল ৩৫ বছর। নবম-দশমের প্যানেলের অপেক্ষমাণ প্রার্থী ছিলাম। নতুন করে পরীক্ষা হল, তাতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় সেই পরীক্ষায় আমি বসতে পারিনি। আমার দোষটা কোথায়? এখন যদি বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তা হলে সেই সুযোগ ২০১৬ সালের এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরাপাবে তো?’’

আরও পড়ুন