West Bengal Assembly Budget Session 2026

শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট ২২ জুন, বিধানসভায় অধিবেশন সূচি চূড়ান্ত করলেন স্পিকার, সূচনা রাজ্যপালের ভাষণ দিয়ে

মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হল সর্বদলীয় বৈঠক এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। বৈঠকের পর পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই আনুষ্ঠানিক ভাবে অধিবেশনের সূচি ঘোষণা করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৬:৩৫
The first full-fledged budget of the government of West Bengal led by Chief Minister Suvendu Adhikari is set to be presented on June 22

বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। —ফাইল চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে আগামী ২২ জুন। সেই বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের সূচি চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হল সর্বদলীয় বৈঠক এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। বৈঠকের পর পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই আনুষ্ঠানিক ভাবে অধিবেশনের সূচি ঘোষণা করেন।

Advertisement

চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ভারতীয় সংবিধানের ১৭৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজ্যপাল তাঁর প্রারম্ভিক ভাষণ প্রদান করবেন। এর পর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ রাজ্যপালের ভাষণের প্রতিলিপি বিধানসভার টেবিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে পেশ করবেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র। একই সঙ্গে শাসকদলের এক প্রবীণ সদস্য ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন এবং অন্য এক সদস্য সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানাবেন। পরের দিন, অর্থাৎ ১৯ জুন শুক্রবার সকাল ১১টায় শোকপ্রস্তাবের জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে। প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিধানসভার কার্যক্রম ওই দিন শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর এখন মূলত নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ জুন সোমবার ঠিক দুপুর ১২টায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি বা রাজ্য বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় তার উপর স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরকার কী ধরনের রূপরেখা গ্রহণ করতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার ইঙ্গিত এই বাজেট থেকেই মিলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূচি অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ জুন বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা, বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক মেনশন এবং সাধারণ বাজেটের উপর বিস্তৃত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ও বিরোধী শিবির উভয় পক্ষই এই আলোচনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর পর ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনা চলার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরের ব্যয়বরাদ্দ সংক্রান্ত দাবিপত্রও পেশ করা হবে। ২৫ জুনের পর অধিবেশনে সাময়িক বিরতি দেওয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ের অধিবেশন শুরু হবে আগামী ৬ জুলাই সকাল ১১টায়, যখন নবগঠিত বিধানসভা পুনরায় মিলিত হবে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই সর্বদলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতা হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উপ-দলনেতা সন্দীপন সাহা, মুখ্যসচেতক আখতারুজ্জামান, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান, রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং কংগ্রেস বিধায়ক মেহতাব শেখ। ফলে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। বিধানসভা অধিবেশনে তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের অবশিষ্ট বিধায়কেরা সরব হতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন