(বাঁ দিকে) দ্রৌপদী মুর্মু, সিভি আনন্দ বোস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি পুনরুজ্জীবনের দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন জানাবেন— এমনই আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মঙ্গলবার লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চার পাতার স্মারকলিপি তুলে দেন জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি রক্ষা কমিটির সদস্যেরা। বৈঠকের পর কমিটির তরফে জানানো হয়, জেসপ খোলার বিষয়ে রাজ্যপালের এই উদ্যোগ কর্মীদের কাছে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ডুমডুমের মঙ্গল পান্ডে রোড ও যশোর রোডে অবস্থিত জেসপ অ্যান্ড কোং লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। ফলে শত শত কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্য সরকার কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে মাসিক ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা চালু করলেও, তা স্থায়ী সমাধান নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় “জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ( অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর) বিল ২০১৬ ” পাশ হলেও রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়ায় তা এখনও আইনে পরিণত হয়নি। ফলে রাজ্য সরকার সংস্থার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে উৎপাদন শুরু করতে পারছে না। এই জটিলতা কাটাতেই রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে জেসপের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। ১৭৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্প সংস্থা ভারতীয় রেল, বন্দর ও ভারী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কমিটির দাবি, এমন একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে থাকা মানে জাতীয় সম্পদের অপচয়। প্রাক্তন মালিকানাধীন ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড জমা না দেওয়া, প্রায় ৩৮০ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর গ্র্যাচুইটি বকেয়া থাকা, সরকারি ও ব্যাঙ্ক ঋণ অনাদায়ী থাকা এবং সংস্থার বিপুল সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগের কথা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে বহু কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়েছেন, এমনকি কয়েকজন আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি। সংগঠনের আহ্বায়ক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়ে জেসপ পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে বলেই আশাবাদী কর্মীরা। জেসপ রক্ষা কমিটির আবেদন—রাষ্ট্রপতির মানবিক সিদ্ধান্তেই ফিরতে পারে জেসপের উৎপাদন ও বাঁচতে পারে শত শত পরিবার।’’