Yuvasathi

শিবরাত্রির ছুটিতেই শুরু হচ্ছে ‘যুবসাথী’র ফর্ম বিলির বিশেষ শিবির, থাকছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’ আবেদনের সুযোগও

গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রকল্পটি ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৬
The special camp for form distribution of Yuvasathi project is starting from the holiday

‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ফর্ম বিলির কাজ শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শিবরাত্রি উপলক্ষে ১৫ জানুয়ারির সরকারি ছুটির দিনেই শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ফর্ম বিলির কাজ। নবান্নের বিশেষ নির্দেশ, জেলায় জেলায় বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে যুবসাথী ও ক্ষেতমজুরদের ভাতা সংক্রান্ত আবেদনপত্র বিলি ও জমা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর নতুন আবেদনও গ্রহণ করা হবে এই শিবিরগুলিতে। পুরো কর্মসূচি ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে পরিচালিত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই, যুবসাথী প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে এনেছে রাজ্য সরকার।

Advertisement

গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রকল্পটি কার্যকর হবে ১ এপ্রিল থেকেই। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনপত্র বিলির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া। যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। কর্মসংস্থান না-পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অন্য দিকে, ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে চার হাজার টাকার ভাতা দেওয়ার আবেদনও নেওয়া হবে একই শিবিরে।

শহর ও শহরতলিতে বিধানসভাভিত্তিক একটি করে শিবির আয়োজিত হবে। গ্রামীণ এলাকায় ব্লকভিত্তিক দু’টি করে শিবির বসবে এবং গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক পৃথক লাইন থাকবে। সেচের জলের নির্ধারিত জলকর সম্পূর্ণ মকুবের আবেদনও গ্রহণ করা হবে। শিবির পরিচালনা নিয়ে শনিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে যুবসাথী ও খেতমজুর ভাতা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং আবেদনপত্রের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে লালগোলার বিধায়ক মহাম্মদ আলি বলেন, ‘‘গ্রামীণ বিধানসভার ক্ষেত্রে দু’টি করে শিবির করে সাধারণ মানুষকে যুবসাথী প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সে ক্ষেত্রে বিধায়ক হিসাবেও আমাদের দায়িত্ব থাকে যে, সাধারণ মানুষ যাতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এইসব শিবিরে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তাই প্রশাসন আমাদের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে তা আমরা করতে প্রস্তুত।’’

অন্য দিকে, কলকাতা পুরসভার ১৬ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লে বলেন, ‘‘কলকাতায় বিধানসভা ভিত্তিক শিবির হলেও, আমরা যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি— কাউন্সিলর-সহ নানা দায়িত্বে রয়েছি, তাঁদেরও এ বিষয়ে মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।’’

নবান্নের একটি সূত্রের মতে, ইন্টারনেটে এই প্রকল্পের ফর্ম ডাউনলোডের সুযোগও থাকছে।

Advertisement
আরও পড়ুন