fireworks factories

ক্লাস্টার তৈরি হয়ে গেলেই কমবে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ঘটনা, দাবি করছেন আতশবাজি ব্যবসায়ীরাই

চম্পাহাটির আগেই এই ধরনের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকার বেশ কিছু ক্লাস্টার গড়ে এই ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন প্রাণসঞ্চারের প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৭
The tendency of explosions in fireworks factories will decrease once the fireworks cluster is created

—প্রতীকী চিত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির হারাল এলাকায় ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি বাজি কারখানায় একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত চারজন কর্মী গুরুতর আহত হন, একজন হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এর আগে কখনও উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, কখনও আবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ অস্বস্তিতে ফেলেছে রাজ্য সরকারকে। চম্পাহাটির ঘটনার আগেই সেসব থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকার একঝাঁক ক্লাস্টার গড়ে এই ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন প্রাণসঞ্চারের প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

Advertisement

সেই উদ্যোগের যখন সলতে পাকানোর কাজ চলছে, তখন চম্পাহাটির বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে প্রশাসনে। তবে আতশবাজি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জেলায় জেলায় ক্লাস্টারগুলি তৈরির পর আতশবাজি শিল্প একবার সঠিক পরিকাঠামো পেয়ে গেলে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে। পূর্বতন রাজ্য সরকার উত্তর ২৪ পরগনায় একটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দু’টি, শিলিগুড়িতে একটি, জলপাইগুড়িতে একটি-সহ মোট সাতটি আতশবাজি ক্লাস্টারের জন্য মোট ৫০ একর জমি বরাদ্দ করেছে। এই ক্লাস্টারগুলি তৈরি হয়ে গেলেই আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন আতশবাজি ব্যবসায়ীরা।

ক্লাস্টার তৈরির কাজ এখনও কেন শুরু করা যায়নি? জবাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের এক কর্তা বলেন, “জমি বরাদ্দ করার পর দেখা গিয়েছে, সব জমিই পতিত জমি বা নিচু জমি, ফলে সেগুলি উচুঁ করার একটি পদ্ধতি রয়েছে। মোট ছয়টি দফতর মিলে ক্লাস্টার তৈরির কাজ করবে। টাকা বরাদ্দ হয়ে গেলেও তাই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ।” তিনি আরও বলেন, “গত বছর ভারী বর্ষার কারণে জমি বরাদ্দ হলেও, তা উচুঁ করার কাজ শুরু করা যায়নি। তাই ক্লাস্টার তৈরির কাজ শুরু হতে সময় লাগছে।”

চম্পাহাটির ঘটনার স্থানীয়েরা জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় পূর্বেও ডিসেম্বর ২০২৪-এ একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে কমপক্ষে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে এর আগেও ২৭ অগস্ট ২০২৩ সালে দত্তপুকুর (নীলগঞ্জ) এলাকায় বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে একাধিক মানুষ মারা যান। জেলার অন্যান্য এলাকায় যেমন পাথরপ্রতিমা (২০২৫)-তে বাজি উৎপাদনকারী জায়গায় একটি বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা নিরাপত্তার ঘাটতি এবং অবৈধ উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে ঘটেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে অবৈধ বাজি কারখানার বিস্ফোরণে এনআইএ তদন্ত শুরু হয়েছে। সবক’টি ক্ষেত্রেই আতশবাজির কারখানায় নূন্যতম পরিকাঠামো ছিল না বলেই জেনেছিলেন আতশবাজি সংগঠনের কর্তারা।

সারা বাংলা আতশবাজি ব্যবসায়ী সংগঠনের বাবলা রায় বলেন, “আমরা মনে করছি এই ক্লাস্টারগুলি তৈরি হয়ে গেলে এই ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে। তবে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। ২০০৯-২০১১ সাল পর্যন্ত আতশবাজি কারখানায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৭৫টি। সেই তুলনায় গত ১৫ বছরে মাত্র ৪০টি র্ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, আমরা দুর্ঘটনা কমাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করব, ক্লাস্টার তৈরি হয়ে গেলে এই সংখ্যা আরও কমে যাবে।”

Advertisement
আরও পড়ুন