প্রজাতন্ত্র দিবসে কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজে অংশ নেবে পশ্চিমবঙ্গের এই ট্যাবলো। — নিজস্ব চিত্র।
এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের থিম হল ‘স্বাধীনতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম্’। সেই থিমকে মাথায় রেখেই বন্দে মাতরম্-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কর্তব্য পথের কুচকাওয়াজে ‘উপস্থিত করাচ্ছে’ পশ্চিমবঙ্গ।
রাজ্যের ট্যাবলোর বিষয় হল, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গ’। মূল ভাবনা যেখানে বন্দে মাতরম্ গানকে ঘিরে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যের থিম কী করে স্বাধীনতা সংগ্রাম হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ছাড়পত্র দেওয়ার অধিকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে বোঝানো হয়, বন্দে মাতরম্ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দু’টিকে আলাদা করে দেখা যায় না। টালবাহানার পরে ছাড়পত্র পায় বাংলার ট্যাবলো।
পশ্চিমবঙ্গের যে ট্যাবলোটি বানানো হয়েছে, সামনে থাকছে বিশ্ব বাংলার লোগো। ট্যাবলোর উপরে, একেবারে গোড়ায় দেখা যাবে, বঙ্কিমচন্দ্র টেবিলে বসে লিখছেন। রাজ্য সরকারের ডেপুটি রেসিডেন্ট কমিশনার শ্বাশত দাঁ জানান, তথ্যগত ভাবে নিঁখুত থাকার জন্য বঙ্কিমচন্দ্র যে পেনে লিখতেন, যে দোয়াত ব্যবহার করতেন ও যে চেয়ারে বসে লিখতেন, সেগুলির হুবহু প্রতিরূপ ট্যাবলোয় তুলে ধরা হয়েছে। রেসিডেন্ট কমিশনার দফতরের তথ্য ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের কর্মী আশিস জানা জানান, এগুলির জন্য নৈহাটিতে থাকা বঙ্কিমভবনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও রকম ভুল না হয়।
বঙ্কিমের পিছনে থাকছে নেতাজির ঘোড়ায় চড়া মূর্তি। তাঁর পিছনে আলিপুর জেল ও ’৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের অন্যতম শহিদ, মাতঙ্গিনী হাজরা। তাঁর অন্য পাশেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একেবারে শেষে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে রয়েছে ক্ষুদিরাম বসু। ফাঁসির মঞ্চ যাতে নিখুঁত হয়, সে জন্য ট্যাবলোয় রাখা হয়েছে পাটাতনের ব্যবস্থা। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে কী ভাবে ব্রিটিশেরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর অত্যাচার চালাত, তা অভিনয়ের মাধ্যমে কর্তব্যপথে উপস্থিত দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন অভিনেতারা। ট্যাবলোর এক পাশে থাকছে স্বামী বিবেকানন্দ-সহ বাংলার ১২ জন বিপ্লবীর মূর্তি। ট্যাবলোর দু’পাশে রবীন্দ্রনৃত্যে থাকবে ছ’জনের একটি দল। শ্বাশত বলেন, ‘‘আমাদের ট্যাবলোর থিম হল বন্দে মাতরম্ গানের সুর। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ বন্দে মাতরম্-এর প্রথম যে সুরটি দিয়েছিলেন, সেই সুরটিই ব্যবহার করা হবে।’’
মূল থিম হিসাবে বন্দে মাতরম্-এর পাশাপাশি দেশাত্মবোধের ভাবনা ও অপারেশন সিঁদুর সাফল্যকে ফের উস্কে দিতে এ বারের কুচকাওয়াজে ভারতীয় বায়ুসেনার সাতটি বিমান (দু’টি করে রাফাল, সুখোই, মিগ ও একটি জাগুয়ার) সিঁদুর ফর্মেশনে ওড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। সিঁদুর ছাড়াও প্রহর, গরুড় প্রহর ফর্মেশনে উড়বে বায়ুসেনার ২৬টি বিমান। এ ছাড়া কুচকাওয়াজে দেখা যাবে ব্রহ্মস ও আকাশ (জমি থেকে আকাশ) ক্ষেপণাস্ত্র, টি-৯০ অর্জুন ট্যাঙ্ক, ধনুষ আর্টিলারি গান ও নানা ধরনের ড্রোন।
পাশাপাশি, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে সিআরপিএফ-এর পুরুষ দলের নেতৃত্ব দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি সিআরপিএফ-এর সহকারী কমান্ড্যান্ট সিমরন বালা নজির গড়তে চলেছেন। এই প্রথম কোনও মহিলা আধিকারিক কুচকাওয়াজে সিআরপিএফ-এর পুরুষ দলের নেতৃত্ব দেবেন।