TMC Councilor Unnatural Death

দক্ষিণ দমদম পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরের অস্বাভাবিক মৃত্যু! ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, ছিলেন অদিতি-দেবরাজের ঘনিষ্ঠ

দক্ষিণ দমদম পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয়। শনিবার সকালে ঘরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতাল তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১০:২৬
দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস।

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। —ফাইল চিত্র।

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু। শনিবার সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কিন্তু কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Advertisement
দেবরাজ চক্রবর্তী এবং অদিতি মুন্সির সঙ্গে কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস।

দেবরাজ চক্রবর্তী এবং অদিতি মুন্সির সঙ্গে কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। ছবি: ফেসবুক।

দক্ষিণ দমদম পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে (সিআইসি) ছিলেন সঞ্জয়। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, তাঁকে পুরসভা ভোটে টিকিট পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে পুরসভায় পদ পাইয়ে দেওয়া পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই দেবরাজের হাত ছিল। সমাজমাধ্যমেও ধারাবাহিক ভাবে অদিতির হয়ে প্রচার করেছেন তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, দাবি স্থানীয় সূত্রে। শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকে সঞ্জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নাগেরবাজারের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আপাতত পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা রুজু করেছে। মৃতের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তিনি আদৌ আত্মহত্যা করেছেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট এখনও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অদিতি-দেবরাজদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এলাকায় যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’ ছিলেন সঞ্জয়। সম্প্রতি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ইডি নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে। কিছু দিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। এ ছাড়া, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়কে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে ইডি। সুজিতের সঙ্গেও সঞ্জয়ের যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

অদিতি মুন্সির সঙ্গে একই মঞ্চে কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস।

অদিতি মুন্সির সঙ্গে একই মঞ্চে কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস। ছবি: ফেসবুক।

অন্য মামলায় রক্ষাকবচের আবেদন নিয়ে দেবরাজ এবং অদিতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ, নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন অদিতিরা। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর জন্যই এই কাজ করা হয় বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়। এই মামলায় আদালত মৌখিক ভাবে জানিয়েছে, ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করা যাবে না। হাই কোর্টে অদিতিদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সেই বিতর্কের মধ্যেই কাউন্সিলরের অস্বাভাবিক মৃত্যু নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে তুলে আনল দক্ষিণ দমদম পুরসভাকে। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির নজরে প্রথম সারিতেই রয়েছে এই পুরসভা।

Advertisement
আরও পড়ুন