মাথা বাঁচাতে হেলমেট, তাতেও রক্ষা নেই! শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই।
বিধানসভা ভোটের তৃণমূলের পরাজয়ের পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়েই আক্রান্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যা। ইট-পাটকেল, ডিম থেকে জুতো ছোড়া হল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দিকে। হামলা থেকে বাঁচাতে ‘সেনাপতি’র মাথায় শিরস্ত্রাণ পরিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। তাতেও রক্ষা হয়নি। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষিতে হেলমেট খুলে গেল মাথা থেকে। যদিও তার পরেও সোনারপুরে নিহত তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সেই বাড়ি থেকে তিনি বার হলেন পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে। শেষমেশ তৃণমূল নেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তা নিয়েও চলে চাপানউতর। বেশি রাতে মমতা জানান, অভিষেককে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
শনিবার এমন ‘অভূতপর্ব’ ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এই হামলার নিন্দা করে বার্তা দিয়েছেন বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা। তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করেছেন বিজেপি সরকারকে। শাসককে খুনি বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। পাল্টা বিজেপি বলেছে, স্বতস্ফূর্ত জনরোষ। এতে দলের কেউ যুক্ত নয়।
বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের ২৫ দিন পর শনিবারই ছিল অভিষেকের প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুরে তিনি গিয়েছিলেন বেলাঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িতে। সেখানেই নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। বেশ খানিক ক্ষণ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল নেতা। ঠিক ওই সময়ে তাঁর ‘শান্তনিকেতন’ নামক বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছিল রাজ্য সিআইডি-র একটি দল। সঙ্গে ছিলেন ভিডিয়োগ্রাফারও। তবে বাসভবনের রক্ষীরা জানান, বাড়ির কর্তা বাড়িতে নেই। জানা যায়, বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিঠিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তেই সিআইডি-র অভিযান। হরিশ মুখার্জি রোডে একপ্রস্ত নাটকের পর বেরিয়ে যায় সিআইডি।
শনিবারই অভিষেককে নোটিস দিয়েছে সিআইডি। ছবি: পিটিআই।
এর মধ্যে সিআইডি অভিযানের খবর কানে যায় অভিষেকের। তিনি কালীঘাটে পৌঁছোন। সেই সময়ে সমাজমাধ্যমে বেলাঘাটার নিহত বিশ্বজিতের কথা লেখেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি খুন করেছে ওই কর্মীকে। তিনি লেখেন, ‘‘সত্যকে চিরকাল সমাহিত করা যাবে না। আমরা ভয় ও আইনহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব এবং নিশ্চিত করব যে প্রত্যেক নির্যাতিত যেন ন্যায়বিচার পান।’’ কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে রাজ্য পুলিশকে খোঁচা দিয়ে অভিষেক জানান, গত সাত বছর যে তিনি হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে থাকেন না, সেটা পুলিশের অজানা নয়। সে যা-ই হোক। বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য তো পরিষ্কার। তিনি সিআইডি-র হাত থেকে নোটিস নেন এবং জানিয়ে দেন আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবেন। সেখানে আবার এক দফা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিঁধে বলেন, ‘‘যারা মনে করছে ফেক কেসে (ভুয়ো মামলা) দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে আমার মাথা নত করবে, তারা ভুল ভাবছে।’’ সেখানেই অভিষেক জানিয়ে দেন তাঁর পরবর্তী গন্তব্য সোনারপুর। সেখানে তাঁর যাওয়ার খবর পেয়ে আগভাগে গোলমাল, অশান্তি তৈরির আবহ করা হচ্ছে। তিনি বিলক্ষণ সেটা জানেন। কিন্তু এ ভাবে তাঁকে ঠেকানো যাবে না। অতএব গন্তব্য সোনারপুর।
সোনারপুরে অভূতপূর্ব বিক্ষোভের মুখে অভিষেক। ছবি: পিটিআই।
সোনারপুরে অভিষেককে হেনস্থা
তখনও সোনারপুরে পৌঁছোননি ডায়মন্ড হারবারের তিন বারের সাংসদ অভিষেক। ওই এলাকায় দেখা যায় বিজেপিকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য তৈরি। জায়গায় জায়গায় প্রায় সকলের হাতে কালো পতাকা। মুখে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। অভিষেকের গাড়ি কলকাতা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অভিমুখে যত এগিয়েছে, সেই স্লোগান বদলে হয়েছে, ‘চোর-চোর, ভাইপো চোর’, ‘অভিষেক চোর, তৃণমূলের সব চোর’ ইত্যাদি। সোনারপুরে কয়েকটি জায়গায় মহিলাদের জড়ো হতে দেখা যায়। তাঁদের মুখেও স্লোগান একই। তবে হাতে কালো পতাকার বদলে কাঁচা এবং পচা ডিম। যেগুলো অনতিবিলম্বে ছোড়া হয় অভিষেক এবং তাঁর দলীয় সহকর্মীদের দিকে।
অভিষেককে চড়-ঘুষি এবং বিক্ষোভ
সোনারপুরে যে নিহত কর্মীর বাড়িতে অভিষেক গিয়েছিলেন, সেই রাস্তায় বড় গাড়ি ঢোকার জায়গা নেই। তাই মূল রাস্তায় এসইউভি রেখে একটি বাইকে সওয়ার হন সাংসদ অভিষেক। তত ক্ষণে একচোট বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। প্রায় তাড়া করে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। মোট তিনটি বাইক ছিলেন অভিষেক এবং তাঁর সঙ্গীরা। কিন্তু মুহুর্মুহু স্লোগান, বাধায় বাইক থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ঠিক তখনই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। সাংসদকে ঘিরে কয়েক জন শারীরিক হেনস্থা করতে শুরু করেন। এলোপাথাড়ি ছুটে আসা ডিম, ইটের টুকরো। মাথা বাঁচাতে ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় গলান অভিষেক। কোনও এক দলীয় কর্মী তাঁর হাতে দিয়েছিলেন সেটি। কিন্তু রেহাই মেলেনি। চড়-থাপ্পড়, ঘুষি— কিছুই বাদ যায়নি। মারের চোটে একবার মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলেন তিনি। চলতে থাকে মার। সেই সঙ্গে ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং আরও নানা টিপ্পনী এবং অশ্লীল শব্দ। হেঁটে চলেন অভিষেক।
হাসপাতালে অভিষেককে দেখতে মমতা। নিজস্ব চিত্র।
অভিষেকের নিশানায় শুভেন্দু-শমীক
ঘর্মাক্ত শরীর। পরনের সাদা রঙের শার্ট ছোড়া ডিম লেগে হলুদাভ। মারের দাগ স্পষ্ট। নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বসে অভিষেক অভিযোগ করেন, তাঁকে খুনের চক্রান্ত হয়েছিল। তবে মেরে দিলেও তিনি সোনারপুর ছাড়বেন না। যত ক্ষণ না নিহত সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মার সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে, তিনি সেখানেই থাকবেন। সেখান থেকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। তিনি বলেন, ‘‘এই বিজেপি সরকারের শাসনের নমুনা? মহিলাদের চুল ধরে টেনে ফেলে দিচ্ছে। আমার সহকর্মী যারা এসেছেন, দু’-তিন জন মহিলা, তাদের লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি? আমার দীর্ঘ দিনের সহকর্মী মারা গিয়েছে। তার পরিবারের সঙ্গে আমি দেখা করতে আসতে পারি না? আমি এখানে কী করতে এসেছি যে আমাকে এ ভাবে আটকানো হল?’’ তৃণমূল নেতার সংযোজন, ‘‘শাসকদল বা সরকার এ ভাবে দায় এড়াতে পারে না। আমি তো এখানে প্রশাসনকে জানিয়ে এসেছি। আমি কী করতে এসেছি এখানে? একজন মৃত সহকর্মীর বাড়িতে এসেছি। আইসি-কে বলেছি। তার পরেও পুলিশের কেউ একজন আসেনি... যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায়, তাদের রাজ্য সভাপতির নাম শমীক ভট্টাচার্য। সেই ভারতীয় জনতা পার্টি রাজ্যের সরকার পরিচালনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির, পুলিশমন্ত্রী বিজেপির। জেলা পুলিশ, রাজ্য পুলিশ কার নির্দেশে চলে? তার পরেও পুলিশকে ফোন করার পরে ফোন ধরেনি। মেসেজের উত্তর দেয়নি।’’
সোনারপুরবাসী হামলা করেননি!
সোনারপুরের মানুষ তাঁকে আক্রমণ করেননি। হামলা করেছি বিজেপির ভাড়া করা গুন্ডারা। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে শারীরিক নিগ্রহ নিয়ে এমনই দাবি করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে, সৌজন্য বিনিময় করছে। বহিরাগত বিজেপির গুন্ডারা ইট-পাটকেল ছুড়ছে। আমার চোখে সাত বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ১০ বছর আগে রোড অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। ইট-পাটকেল ছুড়েছে আমায়। ডান চোখ-বাঁ চোখ দু’দিকেই। চশমার অবস্থা দেখুন।’’ ভাঙা চশমা দেখিয়ে অভিষেক জানান, তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করেছেন বিজেপির লোকজন। আর তাদের লোকজন যদি কিছু করে না থাকেন, তা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? তিনি এ-ও বলেন, ‘‘আমি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাই কোর্টে যাব। সুপ্রিম কোর্টেও যাব। পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে?’’ অভিষেক জানান, তার কাছে তথ্য আছে ওই বহিরাগতদের সম্পর্কে। তিনি সোনারপুর যাওয়ার আগে ফেসবুক লাইভ করে সংগঠিত করা হয়েছিল ওই লোকেদের। তিনি বলেন, “বি গার্ডেন-সোনারপুর ব্যাঙ্কোয়েট অ্যান্ড কমিউনিটি হল ভাড়া করা হয়েছিল। এখানেই বাইরে থেকে লোক এনে রাখা হয়েছিল। বলে দেওয়া হয়েছিল, আমি নামলেই যেন শারীরিক আক্রমণ করা হয়।”
নিহত দলীয় কর্মীর পরিজনের সঙ্গে অভিষেক — সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে না!
সোনারপুর থেকে ফেরার পর বাড়ি যাননি অভিষেক। সোজা তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে। হাসপাতালে অভিষেক ঢুকেছিলেন হুইল চেয়ারে। সেখানে পৌঁছে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেকের পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে সাংসদের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যায় খানিক পরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মমতা জানান, ওই হাসপাতালে ভ্রাতুষ্পুত্রের চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁকে। খানিক পরে অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো পার্কের একটি হাসপাতালে। ভর্তি করানো হবে না কি ছেড়ে দেওয়া হবে, এ নিয়ে চাপানউতর চলে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় অভিষেককে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি মিন্টো পার্কের হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, “ওর (অভিষেকের) মাথায় একটু চোট আছে। বিভিন্ন জায়গায় চোট আছে। ও বলছে গা বমি ভাব আছে। চিকিৎসা হলে, চিকিৎসকেরা এ বিষয়ে সঠিক ভাবে বলতে পারবেন।”
হাসপাতালে হুইলচেয়ারে নিয়ে যাওয়া হল অভিষেককে। —নিজস্ব চিত্র।
সোনারপুরকাণ্ডের সমালোচনা
সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ এবং হামলায় নিন্দা করেছেন বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালও শুভেন্দুর রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “সোনারপুরে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মর্মান্তিক হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিরোধী দলের একজন জনপ্রিয় নেতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।’ সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘অভিষেকের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করল যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক, হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।’’ তার পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অখিলেশ। তিনি লেখেন, ‘‘এমন একটা সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের অনুপস্থিতি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।’’
কী বলছে শাসক বিজেপি, বিরোধী সিপিএম
অভিষেকের উপর হামলা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, তাঁদের দলের কেউ এতে যুক্ত নন। পাশাপাশি সকলকেই হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিষেক কেন ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের প্রচারে যাননি, কেন তিনি ভোটের প্রচারে ডিজে বাজানোর ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কটাক্ষ করেছেন। তিনি এ-ও বলেন, “তৃণমূল আমাদের কর্মীদের সঙ্গে যে অত্যাচার করেছে, আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।” শমীকের সংযোজন, “পুলিশ কেন নেই, সেটা তো আমি বলতে পারি না। আমি তো দলের প্রতিনিধি। সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলতে পারবে।” শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন কোচবিহারে তাঁর কনভয়ে হামলার ঘটনা তুলে এনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতার অভিযোগ, মমতার সরকারের জমানার এমন উদাহরণ অনেক আছে। অভিষেকের উপর হামলা ‘কাম্য নয়’ বলেও তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “উনি (অভিষেক) শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন, কোন বাপ আছে দেখে নেবেন। সেটাও যেমন গণতন্ত্রে উচিত নয়, আজকের ঘটনাও কাম্য নয়।’’ সেলিম মনে করেন, ‘‘বিজেপি-আরএসএস চাইবে নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রেখে দিতে। এটা তেমন কৌশল হলেও হয়ে থাকতে পারে।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বিবৃতি, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দু’জনে যুব তৃণমূলের সাথী ছিলেন। একে অপরকে রক্ষা করার একটা কৌশল।’’