কুণাল ঘোষ। —ফাইল চিত্র।
বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়েও বেরিয়ে গেলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে ‘তৃণমূল ভাঙানোর’ অভিযোগ তুলেছেন কালীঘাটপন্থী কুণাল। তার প্রতিবাদে তাঁদের প্রশিক্ষণ না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
শুক্রবার থেকে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে বিধায়কদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। লোকসভার স্পিকার বিড়লা, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহ, রাজ্যপাল আর এন রবি, কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ দেবেন স্পিকাররা।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। বক্তৃতা করেন শুভেন্দু, ঋতব্রত। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল আমলে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের ডাকা হত না। বিরোধী দলনেতা হিসাবে তিনিও ডাক পাননি বলে জানান শুভেন্দু। প্রশিক্ষণ শিবিরের সূচনায় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন কুণালও। বিধায়কদের জন্য নির্দিষ্ট ডেলিগেট কার্ডও সংগ্রহ করেন তিনি। তার পরেই বেরিয়ে যান তিনি। অবশ্য এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
বেরিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কুণাল বলেন, “প্রশিক্ষণ শিবিরে আসাটা আমার কর্তব্য ছিল। বিধায়ক হিসাবে এসেছিলাম। ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাওয়াটা আমার সিদ্ধান্ত।” তার পরেই লোকসভা এবং বিধানসভার স্পিকারকে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, “সংসদে তৃণমূলকে ভাঙার খেলায় যুক্ত রয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা। অন্য দলে মিশে যাওয়া সাংসদদের বরখাস্ত না-করে উনি গ্রুপ ছবি তুলছেন। আর বিধানসভার স্পিকার বেইমানগুলোকে অনুমোদন দিয়েছেন। এঁদের কাছে সংসদীয় রাজনীতি, নিয়মকানুন, শিষ্টাচার শিখব না।” ‘বেইমান’ বলে তিনি নাম না-করে ঋতব্রত শিবিরকেই খোঁচা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিকল্প কোন উপায়ে পরিষদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে সড়গড় হবেন, তা-ও জানিয়েছেন প্রথম বারের বিধায়ক কুণাল। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের স্পিকার পদে থাকা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় এখন আমার সহকর্মী। তাঁর কাছ থেকেই পরিষদীয় রাজনীতি, নিয়মনীতি, শিষ্টাচার শিখে নেব।”
প্রসঙ্গত, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থনে এবং স্পিকারের অনুমোদনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত। অন্য দিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ তৃণমূলের ২০ জন বিধায়ক নতুন দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে নিজেদের গোষ্ঠীকে মিশিয়ে দিয়েছেন। স্পিকার বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন ওই সাংসদেরা।