West Bengal Assembly Session

ঋতব্রত ৩৮ বনাম কালীঘাট ১৪! বিধানসভায় দুই ভাগে ভাগ হল তৃণমূল, ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে ববি, আলাদা বসলেন কুণাল, মদনেরা

বৃহস্পতিবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা একদা মমতা-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমকেও। ঋতব্রত, সন্দীপন সাহাদের সঙ্গেই বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চে বসেছিলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৬:২৫
(বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ঋতব্রতপন্থী আর কালীঘাটপন্থী। বিধানসভায় আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তৃণমূল। বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম দিন দেখা গেল বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে রয়েছেন ৩৮ জন বিধায়ক। আর ১৪ জন বিধায়ক কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বিরোধী বেঞ্চের অন্য একটি অংশে বসেছিলেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা একদা মমতা-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমকেও, যিনি ববি নামেই রাজনৈতিক মহলে সমধিক পরিচিত। ঋতব্রত, সন্দীপন সাহাদের সঙ্গেই বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চে বসেছিলেন তিনি। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, রুকবানুর রহমান, আলিফা আহমেদরা।

পরিষদীয় দলের মতো তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সুদীপের স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় কোন শিবিরে থাকেন, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অবশ্য তাঁকে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের সঙ্গেই দেখা যায়।

এ বারের বিধানসভা ভোটে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল। সেই হিসাবে তারাই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন শোভনদেবকে। সে কথা স্পিকারকে জানিয়ে গত ৯ মে একটি চিঠি দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে। অভিযোগ, তার ভিত্তিতে বিধানসভার স্পিকার কোনও পদক্ষেপই করেননি। অন্য দিকে, ঋতব্রতদের তরফে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ তোলা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত। তার আগেই ‘দলবিরোধী কাজের’ অভিযোগে ১ জুন তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।

ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব। বুধবার ওই মামলার শুনানিতে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। বৃহস্পতিবার এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেননি বিচারপতি। আপাতত ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতার পদে থাকছেন। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ঋতব্রতদের দাবি, তাঁদের শিবিরে বিধায়কদের সংখ্যা বেড়ে ৬৫ হয়েছে। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার অবশ্য ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অনেক বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন না।

Advertisement
আরও পড়ুন