WBJEE Toppers 2026

গাড়ির দৌড় বা ব্রাজ়িলের ফুটবলে আগ্রহী জয়েন্টে কলকাতার কৃতীরা, কে কোথায় পড়বেন ভবিষ্যতে?

পড়াশোনার জন্য সৃজন আর সব্যসাচী সে ভাবে ঘড়ি ধরে সময় মেপে অভ্যাস করতেন না। যখন যে বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা বেশি করে অনুশীলন করেছেন। আলাদা করে কোচিং ক্লাসও করেননি তাঁরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৭:১৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্য জয়েন্টের মেধাতালিকায় প্রথম দশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন কলকাতার বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। এঁদের মধ্যে কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের দু’জন ছাত্র সৃজন সুর এবং দেবজিৎ পাল যথাক্রমে সপ্তম এবং দশম হয়েছেন। নবম স্থানাধিকারী সব্যসাচী লস্কর বিডিএম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র। এঁরা প্রত্যেকেই আইআইটি খড়্গপুরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

Advertisement

সৃজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, দেবজিৎ ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং এবং সব্যসাচী কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে আইআইটি খড়্গপুর থেকে স্নাতকে পড়তে চলেছেন। যদিও দেবজিৎ এবং সব্যসাচী ২১ জুনের নিট পুনঃপরীক্ষাও দেবেন। ৩ মে-র পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। বাতিল হয়েছে সে পরীক্ষা। তাঁরা মনে করেন, জয়েন্টের মতো কম্পিউটার বেসড টেস্ট (সিবিটি) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে, হয়ত নিট-এর কেলেঙ্কারি আটকানো যেতে পারে। ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর স্বার্থ জড়িয়ে, তাই পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বিষয়ে সরকারেরও দায়বদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

পড়াশোনার জন্য সৃজন আর সব্যসাচী সে ভাবে ঘড়ি ধরে সময় মেপে অভ্যাস করতেন না। যখন যে বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা বেশি করে অনুশীলন করেছেন। আলাদা করে কোচিং ক্লাসও করেননি তাঁরা। তবে, দেবজিৎ কোচিং ক্লাসে যেতেন নিয়ম করে। স্কুলের পর বাড়িতে ফিরে তাঁর অন্তত ছ’ঘণ্টা সময় ব্যয় হত একান্ত পড়াশোনায়।

পরিবারের সদস্যেরা কেউ কখনও পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেননি কৃতিদের।

পরিবারের সদস্যেরা কেউ কখনও পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেননি কৃতিদের। ছবিঃ সংগৃহীত।

দীর্ঘ ক্ষণ একটানা পড়াশোনায় কেউ-ই বিশ্বাসী নন। পড়ার মাঝে বিরতি নিয়ে হাঁটতে যেতেন কিংবা গিটার বাজাতেন দেবজিৎ। তেমন হলে ফেলুদা কিংবা শালর্ক হোমসের জগতেও ঢুঁ মেরে নিতেন। তবে, ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা যে কোনও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তাঁর ভীষণ আগ্রহ। দেবজিতের কথায়, “পরীক্ষার আগে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের খেলা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপও দেখছি সুযোগ পেলে। আমার আশা, এ বার ফর্মে ফিরবে ব্রাজিল।” ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিশদ জ্ঞান অর্জন করতে চান। অঙ্কই তাঁর প্রিয় বিষয়।

সব্যসাচী অবশ্য টেলিভিশন দেখেননি প্রায় দেড় বছর। মনে দিয়ে শুধুই পড়াশোনা করেছেন, নিজের ইচ্ছে মতো। বলেন, “নিট পুনঃপরীক্ষা শেষ হলে আবার একটু বাইরের জগতের সামগ্রিক খবরাখবর জেনে নেব। খেলা কিংবা বিশেষ শখ আমার তেমন কোনও কিছুতেই আগ্রহ নেই। সেমিকান্ডক্টর, ভিএলএসআই ডিজ়াইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই।” সব্যসাচীর স্বপ্ন, সেমিকান্ডাক্টর শিল্পে যোগদান করে একটি শক্তিশালী পরিবেশ বান্ধব চিপ ডিজ়াইন করবেন।

সৃজন আবার ফর্মুলা ওয়ান রেসের ভক্ত। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় রেসিং ড্রাইভার ডাচ তারকা মাক্স এমিলিয়ান ফার্স্টাপেন। পরীক্ষার জন্য প্রিয় তারকার খেলা দেখার সুযোগ হয়নি।” সৃজনের ইচ্ছে, রেসিং দুনিয়ায় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করার। তার আগে তিনি সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিশদ জানতে চান, শিখে নিতে চান সব কিছু।

Advertisement
আরও পড়ুন