Nipah Virus

নিপা উদ্বেগ: চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন আক্রান্ত দুই নার্স, অবস্থার উন্নতি, দাদরা থেকে আনা হল অ্যান্টিভাইরাল

নিপায় আক্রান্ত এই দুই নার্সের চিকিৎসা চলছে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁদের দু’জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পুণেতে। রিপোর্টে দু’জনের শরীরে নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৩
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে এক জনের অবস্থার খুবই সামান্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছে। তবে আরও এক আক্রান্ত নার্সের জ্ঞান ফিরেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকেও বার করা হয়েছে। নতুন করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্যে নতুন করে নিপায় কেউ আক্রান্ত হননি বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দাদরা থেকে আনা হয়েছে ওষুধ (অ্যান্টিভাইরাল)।

Advertisement

নিপায় আক্রান্ত এই দুই নার্সের চিকিৎসা চলছে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁদের দু’জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পুণেতে। রিপোর্টে দু’জনের শরীরে নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে। দুই নার্সের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক ছিল। তাঁদের ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। তবে গত দু’দিনের তুলনায় সামান্য উন্নতি হয়েছে এক নার্সের। অন্য জনের অবস্থার নতুন করে অবনতি হয়নি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।

গত সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী দুই নার্সের নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানান। পাশাপাশি, এটাও জানিয়েছিলেন যে, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অযথা আতঙ্কিত না-হয়ে সকলকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। কী ভাবে দুই নার্স নিপায় ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তাঁরা কাদের সংস্পর্শে এসেছেন, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলছে ‘কন্ট্যাক্ট টেস্টিং’-এর কাজও।

জানা গিয়েছে, নিপা-আক্রান্ত দুই নার্স কিছু দিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় গিয়েছিলেন। কাটোয়ায় তাঁরা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করে সকলের স্বাস্থ্যের অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪৮ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ দলও গড়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

তবে বুধবার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে এক জন নার্স এবং এক চিকিৎসককে ভর্তি করানো হয়। তাঁরা নিপা-আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দু’জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নিপা ভাইরাস কী?

নিপা ভাইরাসের উৎস মূলত বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভাল ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তথ্য অনুযায়ী, শুয়োরও এই ভাইরাসের উৎস হতে পারে। আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক বা অন্য জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে নিপা ভাইরাস। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ হলেও নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৫০-৬০ শতাংশ। আক্রান্তের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই তাঁকে সুস্থ করতে পারে। সে জন্য দ্রুত রোগ ধরা পড়া অত্যন্ত জরুরি।

রোগের লক্ষণ কী?

প্রথমে সাধারণ জ্বরই হয় রোগীর। এর পর শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। শুরু হয় মাথাব্যথা, বমি। মাথায় পৌঁছে যায় সংক্রমণের রেশ। খিঁচুনি শুরু হয়। গলা ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন রোগী। রোগ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন। মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয়, হৃদ্‌পেশিতেও প্রদাহ হয় অনেকের। নির্দিষ্ট কোনও পদ্ধতি মেনে চিকিৎসা নয়, রোগীর সমস্যা দেখে চিকিৎসা করা হয়। এই ভাইরাসের টিকার গবেষণা চলছে। আপাতত নির্দিষ্ট কোনও টিকা নেই বলে জানিয়েছে হু।

Advertisement
আরও পড়ুন