—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি ঘিরে অনিশ্চয়তা। শুনানির দিন বৃদ্ধি হবে কি না সে বিষয়ে রবিবার রাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কিছু জানানো হয়নি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত শনিবার শুনানির শেষ দিন ছিল। ওই সময়ের মধ্যে রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় শুনানি সম্পন্ন হয়নি বলে চিঠি যায় দিল্লির নির্বাচন সদনে। অবশিষ্ট ভোটারদের শুনানির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। সেই চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় সিইও দফতর। এই অবস্থায় শুনানির দিন কত দিন বাড়বে বা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সময়ে প্রকাশ হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কমিশনের পূর্বের সূচি বলছে, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এসআইআরের শুনানির কাজ। শেষ দিন ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। তার সাত দিন পরে অর্থাৎ, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। গত শুক্রবার সিইও দফতরে শুনানির জন্য আরও সময় চেয়ে কয়েকটি জেলা থেকে আবেদন জানানো হয়। সিইও দফতর সূত্রে খবর, আর ১০-১৫ লক্ষ শুনানি বাকি রয়েছে। অতিরিক্ত পাঁচ-সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন জানান মূলত কার্শিয়াং, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-রা। সেই মোতাবেক শুনানিতে বাড়তি সময় চেয়ে কমিশনে চিঠি দেন সিইও। সূত্রের খবর, সরকারি ভাবে জানানো হয়নি ঠিকই, তবে শুনানির কাজ থমকে নেই। ওই সব জায়গাতে শুনানির কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অন্য দিকে, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে জানা যাচ্ছে, রবিবার শুনানির কাজে সে ভাবে অগ্রগতি হয়নি।
রাজ্যের এসআইআরে শুনানিতে প্রায় দেড় কোটি নোটিস জারি করে কমিশন। তার মধ্যে আনম্যাপড ভোটার রয়েছেন প্রায় ৩২ লক্ষ। ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র কারণে শুনানিতে ডাকে কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের ১০-১৫টি বিধানসভা এলাকায় ওই অংশের শুনানি শেষ করা যায়নি। ফলে শুনানির জন্য বাড়তি সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে সিইও দফতর। তাদের মতে, শুনানির দিন বাড়লে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনও পিছিয়ে যেতে পারে। কারণ, এর আগে বলা হয়েছিল ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবারের মধ্যে তথ্য আপলোড এবং ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাছ শেষ করতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, ওই কাজও সময়ে শেষ করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে বাকি প্রক্রিয়ার জন্য নতুন সূচি তৈরি করা হবে।