West Bengal Government

অতিরিক্ত ১৭ হাজার কোটি খরচ রাজ্যের

চন্দ্রিমা এ দিন যে হিসাব পেশ করেছেন, তাতে এই বছরের সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত খরচ রয়েছে। অর্থাৎ, খরচের যে অনুমান নিয়ে সরকার বাজেট পেশ করে, বছর শেষে অনুমান ছাপিয়ে খরচ হলে তাকেই বলা হয় ‘সাপ্লিমেন্টারি গ্রান্ট’ বা অতিরিক্ত খরচ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬

— প্রতীকী চিত্র।

চলতি আর্থিক বছরে (২০২৫-২৬) অতিরিক্ত প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিধানসভায় অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, আচমকা কোনও খরচের কারণে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় সরকারকে। নিয়ম অনুযায়ী, তা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। সামাজিক ক্ষেত্র (লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো মূলত অনুদান সংক্রান্ত), পুজো অনুদান, অতিরিক্ত ধার, রাস্তা, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ (আপাস) কর্মসূচি-সহ আরও একাধিক খাতে এই অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে রাজ্যকে। তবে চলতি আর্থিক বছর শেষ হতে এখনও ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাস বাকি রয়েছে। ফলে এই হিসাব কিছুটা পরে বদল হতেও পারে।

চন্দ্রিমা এ দিন যে হিসাব পেশ করেছেন, তাতে এই বছরের সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত খরচ রয়েছে। অর্থাৎ, খরচের যে অনুমান নিয়ে সরকার বাজেট পেশ করে, বছর শেষে অনুমান ছাপিয়ে খরচ হলে তাকেই বলা হয় ‘সাপ্লিমেন্টারি গ্রান্ট’ বা অতিরিক্ত খরচ। সেই হিসাবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বা বাজেটের নিরিখে অতিরিক্ত প্রায় ৪.৬১% খরচ করতে হয়েছে। এই আর্থিক বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তা সংখ্যা ছিল প্রায় ২.২১ কোটি। তার পরে নতুন উপভোক্তারা সংযুক্ত হওয়ায় এখন সেই সংখ্যা হয়েছে প্রায় ২.৪২ কোটি। সরকারি তথ্য বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। পথশ্রীর মতো রাস্তা প্রকল্পের খাতে প্রায় ৪৩৭৪ কোটি, পুজো অনুদান বাবদ প্রায় ৫০০, আপাস খাতে প্রায় ১১৪০ কোটি, জলজীবন মিশনের বিদ্যুৎ বিল মেটাতে ৭৯৪, পেনশন-সুবিধা দিতে ১৫৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। রয়েছে আরও নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচও। ধার নিতে হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ৫৭৮ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত এই খরচ নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলে থাকেন বিরোধীরা।

তবে চন্দ্রিমার দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর অতিরিক্ত খরচের বহর কমেছে। ২০২৪-২৫ বছরে তা ছিল প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। তবে এ বছরের শেষ দু’মাসে এই খরচ আর বাড়বে কি না, তা নিয়ে অবশ্য কৌতূহল রয়েছে। কারণ, খরচের বহরও ভোটের আগে ক্রমশ বাড়িয়েছে রাজ্যই। চন্দ্রিমার কথায়, ‘‘আচমকা কোনও খরচ তো করতে হতেই পারে। সেটা আবগারি-সহ একাধিক জায়গা থেকে জোগাড় করতে হয়। দরকারে ধারও করতে হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে, তা দিয়ে দিলে এই সমস্যা থাকত না।’’ যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, জনপ্রিয় থাকতে গিয়ে অযথা নিজস্ব আয়ের রাস্তাগুলি ক্রমশ বন্ধ করেছে এ রাজ্যই। অন্যান্য রাজ্য তা ক্রমশ বাড়িয়েছে।

এ দিন কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জিএসটি সংশোধনী বিল পাশ করেছে রাজ্য। একই সঙ্গে পাশ হয়েছে কৃষি আয়করসংশোধনী বিলও।

আরও পড়ুন