এসপ্লানেড মেট্রো স্টেশনের সামনেই তৈরি নতুন বাস স্ট্যান্ড। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।
নির্মীয়মাণ জোকা-এসপ্লানেড মেট্রোর হাত ধরে ভোল বদলাচ্ছে ধর্মতলার সরকারি বাস স্ট্যান্ডের একাংশের। ভূগর্ভস্থ ওই মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশন নির্মাণের জন্য এল-২০ বাসের স্ট্যান্ড সরানো হবে বলে দীর্ঘ জল্পনা চলছিল। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশনের জোড়া প্রবেশপথ এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মাঝের অংশে নতুন বাস স্ট্যান্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ওই বাস স্ট্যান্ডে বাসের ঢোকা এবং বেরোনোর পথ— দু’টিই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ধর্মতলামুখী লেনে। এই ব্যবস্থায় যান নিয়ন্ত্রণ কী ভাবে সম্ভব হবে, তা খতিয়ে দেখার জন্য কলকাতা পুলিশের তরফে সময় চাওয়া হয়েছিল। এই কারণে গত ডিসেম্বর থেকে বাস স্ট্যান্ড সরে যাওয়া নিয়ে জল্পনা চললেও পুরো প্রক্রিয়া মাস দেড়েকেরও বেশি বিলম্বিত হয়। নতুন বাস স্ট্যান্ডের বিভিন্ন পরিকাঠামো বদলের জন্য সরকারি পরিবহণ নিগমগুলির পক্ষ থেকে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তাতেও বেশ কিছুটা সময় যায়। শেষ পর্যন্ত ওই সব কাজ মেট্রোর নির্মাণ সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
পুরনো এল-২০ বাস স্ট্যান্ড থেকে সারা দিনে বিভিন্ন রুটে একশোরও বেশি দূরপাল্লার বাস ছাড়ে। যার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, কলকাতা ট্রাম কোম্পানি এবং রাজ্য পরিবহণ নিগমের বাস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাড়ে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস। তার পরেই রয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস। সন্ধ্যার দিকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের শিলিগুড়িগামী নন-এসি এবং এসি ভলভো বাস এই স্ট্যান্ড থেকেই ছাড়ে। পুরনো বাস স্ট্যান্ডের সঙ্কীর্ণ পরিসর ছাড়াও আলোর অভাব নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ ছিল।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে নতুন যে বাস স্ট্যান্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসের জন্য পৃথক বুকিং কাউন্টার ছাড়াও যাত্রীদের জন্য বাতানুকূল ওয়েটিং রুম, বাসচালক এবং কর্মীদের সাময়িক বিশ্রামের জন্য বাতানুকূল ক্রু রুম তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক ‘পে অ্যান্ড ইউজ় টয়লেট’। বিশেষ সমস্যার মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের আধিকারিকদের জন্য পৃথক একটি ঘরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
নতুন বাস স্ট্যান্ডে যাত্রীদের সুবিধার্থে তিনটি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসানো হচ্ছে। এর মধ্যে আট ফুট লম্বা এবং ছ’ফুট চওড়া একটি বড় ডিসপ্লে বোর্ড এবং দু’টি চার ফুট দীর্ঘ, তিন ফুট চওড়া ডিসপ্লে বোর্ড বসছে। বড় বোর্ড সাধারণ পরিসরে এবং ছোট দু’টি বোর্ড যাত্রীদের অপেক্ষার জায়গায় বসানো হচ্ছে। ওই বোর্ডে বাস ছাড়ার সময় দেখা যাবে। এ ছাড়াও যাত্রীদের সুবিধার্থে থাকছে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। বাস স্ট্যান্ডের বাইরের দিকে জোড়া প্রবেশপথে প্রশস্ত সাইনবোর্ড থাকবে।
এত দিন ধর্মতলায় নির্দিষ্ট বাস স্ট্যান্ড চিনতে গিয়ে যাত্রীদের প্রায়ই সমস্যা পড়তে হত। নতুন এই স্ট্যান্ডে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়াও যাত্রীদের নিরাপত্তা ভেবে চারটি ১৬ মিটারের হাই মাস্ট বাতিস্তম্ভ, চারটি ৯ মিটারের বাতিস্তম্ভ ছাড়াও আরও একাধিক বাতিস্তম্ভ ব্যবহার করে পুরো চত্বর আলোকিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিবহণ দফতর এবং বিভিন্ন নিগমের আধিকারিকেরা বাস স্ট্যান্ড পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অল্প কিছু বদল দিন কয়েকের মধ্যে সম্পূর্ণ করে আগামী ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন বাস স্ট্যান্ড যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য খুলে যাবে। মেট্রোর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই বাস স্ট্যান্ড নতুন পরিসরেই থাকবে বলে খবর।