১৮ বছর পর আবার বলিউডে। দীর্ঘ বিরতির পর বক্সঅফিস কাঁপানো ছবিতে অভিনয় করে বলিপাড়ায় আবার কেরিয়ার শুরু করলেন সৌম্যা টন্ডন। বর্তমানে অবশ্য ‘রহমান ডাকাতের স্ত্রী’ হিসাবেই অধিক পরিচিত তিনি।
গত বছরে আদিত্য ধরের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ধুরন্ধর’। এই ছবিতে রহমান ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করেন অক্ষয় খন্না। পর্দায় অভিনেতার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পান সৌম্যা। তবে বড়পর্দায় ‘কামব্যাক’ হলেও সৌম্যা একসময় ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন।
জন্ম ১৯৮৪ সালের নভেম্বরে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। সৌম্যার বাবা সেখানকার এক কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যের উপর ১৭টি বই লিখেছেন তিনি। উজ্জৈনে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লি চলে যান সৌম্যা।
দিল্লির কলেজ থেকে এমবিএ করেন সৌম্যা। কম বয়স থেকেই মডেলিং করতে শুরু করেন তিনি। ফ্যাশন সরণিতে বহু বার হেঁটেছেন। সেখান থেকেই ছোটপর্দায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান।
২০০৬ সালে ‘অ্যায়সা দেশ হ্যায় মেরা’ নামের হিন্দি ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় কেরিয়ার শুরু করেন সৌম্যা। তার পর একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় কয়েকটি রিয়্যালিটি শোয়েও সঞ্চালনার সুযোগ পান তিনি।
শাহরুখ খানের সঙ্গে একটি রিয়্যালিটি গেম শোয়ে সহ-সঞ্চালনা করেছিলেন সৌম্যা। ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা তিনটি সিজ়ন একটি জনপ্রিয় কুইজ় প্রতিযোগিতায় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে সহ-সঞ্চালনা করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ২০০৭ সালে ইমতিয়াজ় আলির পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় শাহিদ কপূর এবং করিনা কপূর খান অভিনীত ‘জব উই মেট’। এই ছবিতে করিনার বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সৌম্যা।
২০০৭ সালের পর আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি সৌম্যাকে। বরং ছোটপর্দায় একটি হিন্দি ধারাবাহিকে টানা পাঁচ বছর অভিনয় করে দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ‘ভাবীজি ঘর পর হ্যায়!’ ধারাবাহিকে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
কিন্তু যে ধারাবাহিক সৌম্যাকে ছোটপর্দায় জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল, সেই ধারাবাহিক থেকে নাকি স্বেচ্ছায় সরে গিয়েছিলেন তিনি। কানাঘুষো শোনা যায়, কোভিড অতিমারির সময় পারিশ্রমিক কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সৌম্যাকে। কিন্তু কম পারিশ্রমিকে সংসারের খরচ বহন করা কঠিন ছিল। সে কারণে তিনি কাজ ছেড়ে দেন।
ধারাবাহিক ছাড়ার পাঁচ বছর পর বড়পর্দায় ‘কামব্যাক’ করেন সৌম্যা। জানা যায়, পরিচালকের কথা শুনে অক্ষয় খন্নাকে সাত বার চড় মেরেছিলেন তিনি। পরে অভিনেতার কাছে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছিলেন।
চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে অক্ষয়কে চড় মারার দৃশ্যে অভিনয় করতে হত সৌম্যাকে। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে সেটিই ছিল সৌম্যার ‘এন্ট্রি সিন’। কিন্তু অক্ষয়কে চড় মারার সময় ঘাবড়ে গিয়েছিলেন সৌম্যা। কোনও রকমে অভিনয় করে গালে আলতো করে চড় মারছিলেন তিনি। তা দেখে পরিচালক আপত্তি জানান।
সৌম্যার মতে, চড় মারার দৃশ্যটি খুব বিশ্বাসযোগ্য করতে চেয়েছিলেন আদিত্য। তাই দৃশ্যে জোর দিতে সৌম্যাকে সত্যি সত্যিই চড় মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিচালকের কথা অমান্য করতে পারেননি সৌম্যা। অক্ষয়ের গালে এক বার নয়, শুটিংয়ের প্রয়োজনে মোট সাত বার জোরে চড় মেরেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য অক্ষয়ের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
২০২৬ সালের মার্চে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘ধুরন্ধর ২’। কিন্তু সেই ছবিতে নাকি সৌম্যার দৃশ্য খুব কমই থাকবে। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘সিনেমার প্রথম পর্বে আমার স্বামী মারা গিয়েছে। সে কারণে ছবির দ্বিতীয় পর্বে আমার চরিত্রের বিশেষ কোনও ভূমিকা নেই।’’
বাস্তবে সৌম্যার স্বামীর নাম সৌরভ দেবেন্দ্র সিংহ। ব্যাঙ্ককর্মী হিসাবে জীবন শুরু করা সৌরভ বর্তমানে শিল্পোদ্যোক্তা। ১০ বছর প্রেম করার পর ২০১৬ সালে মুম্বইয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে সৌরভকে বিয়ে করেন সৌম্যা। বিয়ের তিন বছর পর ২০১৯ সালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন অভিনেত্রী।
দিল্লিতে থাকাকালীন সৌরভের সঙ্গে আলাপ। সৌম্যার প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম করতেন সৌরভের রুমমেট। সেই সূত্রে আলাপ হয়েছিল দু’জনের। পরে পেশার খাতিরে ভিন্ন শহরে চলে যান তাঁরা।
সৌম্যা এক সাক্ষাৎকারে জানান, মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নায়িকা। তখন তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অহমদাবাদ থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন সৌরভ। প্রথম বার ডেটে গিয়ে নাকি দু’জনের মধ্যে খুব অশান্তি হয়েছিল।
মুম্বইয়ের এক রেস্তরাঁয় দেখা করার কথা ছিল সৌম্যা এবং সৌরভের। পুণে থেকে দেখা করতে গিয়েছিলেন সৌরভ, সৌম্যা গিয়েছিলেন দিল্লি থেকে। কিন্তু দেখা হওয়ার আধ ঘণ্টা পরেই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়ে যায় এবং সৌম্যা কান্নাকাটি করতে শুরু করেন।
বাড়ি ফিরে সৌরভের কথা সৌম্যা তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন। সব শুনে অভিনেত্রীর বাবা জানিয়েছিলেন যে, সৌরভই তাঁর মেয়ের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী। কেরিয়ারে আরও উন্নতি করার জন্য সৌম্যাকে অনবরত অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেন সৌরভ।
গত মাসে বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন সৌম্যা। শুটিংয়ের ডেট বাতিল করে ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, অনলাইনে ভোটার তালিকা দেখে যাওয়ার পরেও ভোট দিতে গিয়ে তিনি দেখেন যে, সেখানকার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই।
সৌম্যার দাবি, সকালে ভোট দিতে যাওয়ার আগে অনলাইনে পোলিং বুথের সব তথ্য মিলিয়ে দেখেছিলেন তিনি। ফোনে সেই ছবিও তুলে রেখেছিলেন। কিন্তু পরে বুথে পৌঁছে জানতে পারেন, সেখানকার ভোটার তালিকায় নাম নেই তাঁর। ভোটের স্লিপে অন্য জায়গার নাম থাকায় ভোটকেন্দ্রের কর্তারা তাঁকে অন্য বুথে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন সৌম্যা। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ১৯ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
সব ছবি: সংগৃহীত।