West Bengal Government on Forceful Religious Conversion

‘লভ’ হোক বা ‘ল্যান্ড’ জিহাদ! বরদাস্ত করবে না সরকার, ধর্মান্তরণ রুখতেও কঠোর আইন, ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

প্রচলিত আইনে জোর করে ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার সংস্থান থাকলেও, ভারতীয় জনতা পার্টি সব সময়েই বলপূর্বক ধর্মান্তরণের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপের পক্ষে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও সেই সুরই শোনা যায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৪৬
West Bengal BJP government to introduce stringent laws to prevent forceful religious conversion

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

ধর্মান্তরণ নিয়ে কঠোর আইন আনতে চলেছে এ রাজ্যের সরকার। ‘লভ জ়িহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড-জ়িহাদ’ রুখতেও কঠিন আইন আনবে তারা। শুক্রবার ‘সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন আইন আনার বিষয়ে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই বিজেপি সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আকারে বিধানসভায় পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

প্রচলিত আইনে জোর করে ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার সংস্থান থাকলেও, ভারতীয় জনতা পার্টি সব সময়েই বলপূর্বক ধর্মান্তরণের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপের পক্ষে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও সেই সুরই শোনা যায়। এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেন ‘লভ-জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’-ও বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং উত্তরাখণ্ডে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে ধর্মান্তরণ নিয়ে কঠোর আইন। দু’টি আলাদা ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এই আইনগুলিতে। এ রাজ্যেও বিজেপির অভিযোগ, বিয়ের নামে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে পরিকল্পনামাফিক প্রতারণা করে ধর্মান্তরণ করা হচ্ছে, যা বিজেপি ‘লভ-জিহাদ’ নামে অভিহিত করে। উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের এই ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত আইন শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অন্য দিকে, অসমেও হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মধ্যেই দুই আলাদা ধর্মাবলম্বীর বিয়ের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের সংস্থান তৈরি করেছে।

‘ল্যান্ড জিহাদ’ শব্দটিও ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক প্রচারের অংশ। এই রাজ্যে পরিকল্পিত ভাবে কোনও বিশেষ ধর্মাবলম্বী মানুষ জমি কিনে জনবিন্যাস বদল করছে বলে নির্বাচনের প্রচারেই বার বার অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। গুজরাত, অসম-সহ একাধিক বিজেপিশাসিত রাজ্যে দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে জমি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি কড়াকড়ি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড-জিহাদ’ রুখতে আইন প্রণয়নের ঘোষণা সেই রকম কোনও বিধিনিষেধের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ-এক প্রধান— এক বিধান’ স্লোগানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাম না-করে নিশানা করেন বিরোধীদের। তিনি বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুরে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বা পহেলগাঁওয়ের আততায়ীদের নিয়ে অনেকে চুপ করে ছিলেন। বাংলার মাটি থেকে আর এই ধরণের রাষ্ট্রদ্রোহিতা বরদাস্ত করা হবে না।’’

শুভেন্দু শুক্রবার ঘোষণা করেন, জরুরি অবস্থার সময় এই রাজ্যের যাঁরা গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং জেলে যেতে হয়েছিল যাঁদের, তাঁদেরকে ৯ অগস্ট রাজ্য সরকার সম্মাননা প্রদান করবে।

Advertisement
আরও পড়ুন