Suvendu Adhikari on Fuel Restriction

পাত্রে ডিজ়েল সরবরাহের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল শুভেন্দুর সরকার! জ্বালানি নিয়ে কেন্দ্রের বিধিনিষেধ শিথিল পশ্চিমবঙ্গে

জ্বালানির জোগান নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছিল কেন্দ্র। বলা হয়েছিল, পাত্রে ডিজ়েল কেনা যাবে না। তেল সংস্থাগুলির থেকে জ্বালানি কেনার সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১১:৩০
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

ডিজ়েল সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, তা কিছুটা শিথিল করা হল পশ্চিমবঙ্গে। জনগণের সুবিধার্থে পাত্রে (কন্টেনারে) ডিজ়েল সরবরাহের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের তরফে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা জানিয়ে তেল সংস্থাগুলিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে দেশে জ্বালানির জোগান নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছিল কেন্দ্র। বলা হয়েছিল, পাত্রে ডিজ়েল কেনা যাবে না। তেল সংস্থাগুলির কাছ থেকে দিনে কতটা জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে, তারও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চা বাগানে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা প্রযুক্ত হবে না। এই ক্ষেত্রগুলিকে জনস্বার্থে ছাড় দিতে হবে, তেল সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছে সরকার।

জ্বালানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জরুরি পরিষেবায় সমস্যা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা, রাজ্যের অর্থনীতি যাতে সুচারু ভাবে এগোতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। পাত্রে ডিজ়েল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার ফলে আমাদের কৃষি ভাইরা, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কার্যক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। রাজ্য সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা প্রধান তেল কোম্পানিগুলিকে জ্বালানির বিধিনিষেধের আওতা থেকে সম্পূর্ণ ভাবে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’’

কেন্দ্রের এই বিধিনিষেধের জন্য চাষবাস, পশুপালন বা পোল্ট্রি ফার্মিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছোট ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। কারণ, পেট্রল পাম্প থেকে তাদের ডিজ়েল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য যে পদ্ধতি এবং যে দামে ডিজ়েল কিনতে হয়, তা ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কৃষিক্ষেত্রে সেচের জলের পাম্প চালানো থেকে শুরু করে হাসপাতালের জেনারেটর, সর্বত্র ডিজ়েলের ব্যবহার রয়েছে। স্থানীয় সংস্থাগুলির ‘হাই-স্পিড ডিজ়েল’ (এইচএসডি)-র উপরেই নির্ভরশীল এই সমস্ত বিভাগ। তাই রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ করল।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা বা গ্রাহকেরা এখন থেকে পাত্রেই সহজে ডিজ়েল কিনতে পারবেন। প্রতিদিনের যে সর্বাধিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা-ও শিথিল করা হয়েছে। ডিজ়েল পাওয়ার জন্য পাম্পগুলিতে শুধু প্রাথমিক পরিচয়ের নথি দেখালেই চলবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নথি হিসাবে দেখানো যাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনও পরিচয়পত্র, বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশনের নথি, জমির রেকর্ড বা সরকারি কোনও নথি।

Advertisement
আরও পড়ুন