মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
সাধারণ জনতার নিরাপত্তা এবং পুলিশের সুরক্ষা— উভয়ই নিশ্চিত করবে রাজ্যের নতুন সরকার। বুধবার তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকারের আমলে পুলিশকর্মীদের আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যেতে হবে না। পুলিশকর্মীদের গা থেকে রক্ত বেরোতে দেবে না তাঁর সরকার। বাহিনীতে আরও নিয়োগেরও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য পুলিশের দক্ষতা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বুধবার এক নয়া পদক্ষেপ করে শুভেন্দুর সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। সেই কর্মসূচি থেকেই রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুলিশকে যে এককালে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হত, তা স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দক্ষতা এক সময় অনেক ভাল জায়গায় ছিল। উচ্চতায় ছিল। কলকাতা পুলিশকে আন্তর্জাতিক স্তরের অনেক পুলিশ দফতরের সঙ্গে তুলনা পর্যন্ত করা হত।” তবে বিগত সরকার পুলিশের দক্ষতা কাজে লাগায়নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে গোলমাল ঠেকাতে গিয়ে বার বার পুলিশকর্মীরা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে গার্ডেনরিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজে ছাত্র ভোটের দিন গোলমাল ঠেকাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এক পুলিশকর্মী। তার পরের বছর, ২০১৪ সালে আলিপুর থানায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের তাণ্ডব থেকে ‘বাঁচতে’ টেবিলের তলায় ঢুকতে হয়েছিল পুলিশকর্মীদের। পর পর এই ঘটনাগুলি নিয়ে আলোচনাও কম হয়নি। কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও গোলমাল ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বার বার উঠে এসেছে। তবে নতুন সরকারের জমানায় সেই ছবি বদলাবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বললেন, “আমাদের পুলিশকর্মীরা কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে যাবে না। আমাদের পুলিশকর্মীদের গা থেকে রক্ত বেরোবে না। আমরা সেই ভাবে সুরক্ষিত পুলিশ (বাহিনী) তৈরি করব। জনগণের নিরাপত্তা এবং পুলিশের নিরাপত্তা এবং তাকে সুরক্ষিত রাখা উভয়েই এই সরকারের দায়িত্ব এবং সেটাই আমরা করব।”
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই বাহিনীর সুরক্ষার বিষয়ে নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। দায়িত্ব গ্রহণের পরে প্রথম জেলা সফরেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন— অপরাধীদের কাছে পুলিশ মার খাবে, তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার তা নিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও বদ্ধপরিকর নতুন সরকার। কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর উপর যাতে রাজ্যের পুলিশকে নির্ভর করে থাকতে না হয়, বাহিনী যাতে স্বনির্ভর হয়— তা নিশ্চিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। সেই উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মউ স্বাক্ষর করা হল বলে জানান তিনি।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বাহিনীকে সঠিক ভাবে ব্যবহার না-করারও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে। কিন্তু পুলিশকর্মীদের উপযুক্ত ভাবে তৈরি করা হয়নি। বাহিনীর আত্মরক্ষার জন্য আধুনিক সামগ্রী দেওয়া হয়নি। পুলিশবাহিনীর সংখ্যাবৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ সবের কারণেই সাধারণ মানুষের আশা-প্রত্যাশার থেকে দূরে সরে গিয়েছে বাহিনী। বুধবারের মউ স্বাক্ষরের ফলে বাহিনীকে আবার দক্ষ এবং উন্নত করে তোলা যাবে বলে মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে বাহিনীতে আরও নিয়োগেরও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা পুলিশের লোকবল, নিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিয়োগ পদ্ধতিতে আরও স্বচ্ছ্বতা আনতে চাইছি এবং আমরা তার ব্যবস্থা করছি। আমাদের যে ১৬ হাজার কনস্টেবল প্রশিক্ষণ নিয়ে বসে আছে, তাদেরও কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছি। আধুনিক সামগ্রী দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সরকার পুলিশকে সম্পূর্ণ মদত দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।”