— প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে ‘এক বৃন্তে দু’টি কুসুম’-এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলামের গুরুত্ব কি কমছে?
এত দিন নজরুল জয়ন্তীর যে সমস্ত অনুষ্ঠান কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় জাঁকজমক সহযোগে করা হত বিপুল অর্থ ব্যয় করে, এ বছর সেই সব অনুষ্ঠান সারা হয়েছে সামান্য খরচে। তথ্য-সংস্কৃতি দফতর সূত্রের খবর, এ বছর নিউ টাউনে নজরুল তীর্থ প্রেক্ষাগৃহে নজরুল জয়ন্তীর একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানের সামগ্রিক খরচ ছিল মেরেকেটে দেড় লক্ষ টাকা। তবে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা দর্শকেরা জানাচ্ছেন, উপস্থাপনা ঠিকঠাকই ছিল।
একটি সূত্রের দাবি, গত বছর নজরুল তীর্থ এবং রবীন্দ্র সদন-নন্দন তল্লাট মিলিয়ে নজরুলের জন্ম জয়ন্তীতে তিন দিনের অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি তরফে সামগ্রিক ভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল ৪৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪৫১ টাকা। গত বছর নজরুল তীর্থের অনুষ্ঠানটির বরাত পায় একটি বেসরকারি বিজ্ঞাপন সংস্থা। সেখানে এক দিনের অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩৯৯ টাকা।
উল্লেখ্য, প্রশাসনিক উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকার একাধিক বার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার মুখে পড়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হয়েছে টাকার অভাবে। অথচ, সাংস্কৃতিক নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে। তার জেরেই বর্তমানে এই ব্যয়-সঙ্কোচন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে, এ বার রবীন্দ্র জয়ন্তীও সে ভাবে সরকারি উদ্যোগে পালিত হয়নি। কারণ, ওই দিন নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। নজরুল তীর্থের অনুষ্ঠানটি অতীতেও গুরুত্ব পেত বলেই সম্ভবত সেখানে এ বারও অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, যে বেসরকারি সংস্থাটি গত বছর নজরুল তীর্থে নজরুল জন্ম জয়ন্তীর আয়োজন করেছিল, তারা যে খরচের হিসাব দিয়েছিল, তাতে আসবাব, মঞ্চের ব্যাকড্রপ, ফুল, সাউন্ড সিস্টেম, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ বসানো ও খোলা, কাঠের ফ্লেক্স এবং প্রবেশদ্বারের মিনারের মতো বিভিন্ন খাতে টাকা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু ফুলের জন্য ৬১ হাজার ২৫০ টাকা এবং সাউন্ড সিস্টেমের জন্য ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা ধরা হয়েছিল। শিল্পীদের খরচ এই বিপুল ব্যয়ের বাইরে ছিল বলেই খবর।
এর বিপরীতে নজরুল তীর্থে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের এ বছরের নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমের জন্য ২১ হাজার, ফুলের জন্য ১৬ হাজার, আলোর জন্য সাড়ে ছ’হাজার, মঞ্চের ব্যাকড্রপের জন্য আট হাজার টাকা— এ ভাবে সব মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বার খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা। এই হিসাবের মধ্যে আবার শিল্পীরাও ছিলেন। এ নিয়ে অবশ্য আর তথ্য দিতে চাননি দফতরের আধিকারিকেরা।
যে সংস্থা গত বছর নজরুল তীর্থে কাজ করেছিল, তাদের তরফে কিংশুক হালদার বললেন, ‘‘এ বার নজরুল জন্ম জয়ন্তী হয়নি বলেই শুনেছি। আমাদেরও ডাকা হয়নি।’’