DA west bengal

বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘটের দিন অফিসে হাজিরার নির্দেশ, অনুপস্থিতিতে বেতন কাটার বার্তা নবান্নের

বৃহস্পতিবার অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ওই দিন সমস্ত সরকারি দফতর স্বাভাবিক নিয়মে খোলা থাকবে এবং কর্মীদের অবশ্যই কাজে যোগ দিতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ২০:১৪
West Bengal makes attendance mandatory for the employees on Thursday’s strike

নবান্ন। —ফাইল চিত্র।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা আবেদন করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছে। রাজ্য সরকারের সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার একাধিক রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক সংগঠন একযোগে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সেই ধর্মঘটের পাল্টা নির্দেশিকা জারি করে কড়া পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে নবান্ন।

Advertisement

১৩ মার্চ ডাকা ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশ জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ওই দিন সমস্ত সরকারি দফতর স্বাভাবিক নিয়মে খোলা থাকবে এবং কর্মীদের অবশ্যই কাজে যোগ দিতে হবে।

নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৩ মার্চ কোনও সরকারি কর্মীকে ওই দিনের জন্য ক্যাজুয়াল লিভ বা অন্য কোনও ছুটি দেওয়া হবে না। দিনের প্রথমার্ধ, দ্বিতীয়ার্ধ বা পুরো দিনের জন্য ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ওই দিন কেউ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, সেই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীর কোনও বেতন দেওয়া হবে না। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন— কোনও কর্মী হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারের কারও মৃত্যু হলে, ১২ মার্চের আগে থেকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকলে বা আগে থেকে অনুমোদিত চাইল্ড কেয়ার লিভ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মেডিক্যাল লিভ বা আর্নড লিভে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হবে।

এ ছাড়াও নির্দেশে বলা হয়েছে, ১৩ মার্চ কেউ অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ওই কর্মীর কাছে শোকজ় নোটিস পাঠাবেন। সেখানে জানতে চাওয়া হবে কেন তাঁর বিরুদ্ধে অননুমোদিত অনুপস্থিতির জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কর্মী যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে।

তবে যদি অনুপস্থিতির যথাযথ কারণ না দেখানো যায় বা অনুমোদিত ছুটি না থাকে, তা হলে সেই দিনটিকে ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বেতন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি শোকজ়ের জবাব না দিলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অর্থ দফতরের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ৩০ মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠাতে হবে। বন্‌ধের দিন সরকারি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়েকটি সংগঠনের ডাকা ১৩ মার্চের ধর্মঘটকে সামনে রেখেই আগাম এই নির্দেশ জারি করল রাজ্য সরকার, যাতে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত না হয়। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ‍্যে যে কোনও ধরনের বন্‌ধ বা ধর্মঘটের সরাসরি বিরোধিতা করে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কো-অর্ডিনেশন কমিটি, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন