কুয়োতে হামলা ইরানের। ফাইল চিত্র।
কী ভাবে যে ওই একশো মিটার হাঁটলাম, ভেবেই শিউরে উঠছি! কান ফাটানো সাইরেন বাজছে। মাথার উপর দিয়ে ড্রোন উড়ছে। ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ির মধ্যে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব হেঁটে চলেছি। যে করে হোক বাঙ্কারে পৌঁছতে হবে। শুধু এটুকু ভেবেছি, বাঁচতে গেলে, দ্রুত হাঁটতে হবে।
আট বছর ধরে কুয়েত শহরে আছি। এখানকার ফারওয়ানিয়া অঞ্চলে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ওয়ানে খাবারের দোকানে কাজ করি। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ (ভারতীয় সময় রাত ৮টা) হঠাৎ বিমানবন্দর তাক করে একটার পরে একটা ড্রোন উড়ে এল। তার কয়েকটা আছড়ে ফাটায় কানে তালা ধরানো বিস্ফোরণ হল।
তখন রান্না করছিলাম। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরের ভিতরে ছিলেন। সাইরেন বেজে ওঠে বার বার। রান্নাবান্না ছেড়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে পড়ি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। এখান থেকে সবচেয়ে কাছে যে বাঙ্কার রয়েছে, সেখানে পৌঁছতে গেলে ১০০ মিটার হাঁটতে হবে। ভিড়ের মধ্যে যতটা দ্রুত সম্ভব
হাঁটছি আর উপরওয়ালার কাছে বার বার প্রার্থনা করছি, যাতে কিছু না হয়। যা-ই হোক, কয়েক ঘণ্টা পরে ড্রোন হামলা বন্ধ হয়ে যায়। বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসি। তখন থেকে আর বিমানবন্দরে কোনও হামলা হয়নি। তবে বিমানবন্দর থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে সামরিক বিমানঘাঁটিতে বার বার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি।
এক ভাই কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের দেউলিহাটের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং চার বছরের ছেলে, এক বছরের মেয়ে রয়েছে। বাড়ির লোকেরা খুব দুশ্চিন্তায় আছে আমাকে নিয়ে। তাদের জানিয়েছি, তেমন কিছু হয়নি। বিমান পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই চাইলেও এখন বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়।
অনুলিখন: কেশব মান্না