(বাঁ দিকে) মুহাম্মদ ইউনূস। গৌতম আদানি (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট। ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকনমিক জ়োন) গঠনের চুক্তি বাতিল থেকে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য নয়াদিল্লিকে দোষারোপ— মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৭ মাসের জমানায় দ্বিপাক্ষিক টানাপড়েনের কোনও আঁচই লাগেনি শিল্পপতি গৌতম আদানির বিনিয়োগে।
সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, নয়াদিল্লি-ঢাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি এবং ইউনূস সরকার নিযুক্ত প্যানেল ‘অতিরিক্ত মূল্যের’ বলে অভিহিত করার পরেও বাংলাদেশে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ঝাড়খণ্ডে গোড্ডায় আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩৮ শতাংশ বেড়ে ২.২৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট/ঘন্টা হয়েছে। এর ফলে এর ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎক্ষেত্রে ভারতীয় সরবরাহের পরিমাণ ১৫.৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে হাসিনার জমানায় যা ছিল ১২ শতাংশ।
২০১৭ সালের চুক্তি অনুসারে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে রফতানি করে আদানি গোষ্ঠীর সংস্থা আদানি পাওয়ার। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের কাছে আদানিদের বিদ্যুতের খরচ বাবদ বকেয়া ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। তা দেওয়া নিয়েও টালবাহানা করেছে ঢাকা। গত ২৬ জানুয়ারি ইউনূস সরকার নিযুক্ত কমিটি জানিয়েছিল, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে করা চুক্তিগুলির মধ্যে আদানি-চুক্তিই ‘নিকৃষ্টতম’! শুধু তা-ই নয়, এ জন্য নাকি প্রতি বছরই পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ভারতের প্রতিবেশী দেশকে। তাতে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের। হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছিল ইউনূস সরকার। কিন্তু সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, ইউনূসের জমানাতেও বিদ্যুৎ রফতানি বাড়িয়েছে আদানিরা।