Immigration

অভিবাসন নীতি-বিরোধী মিছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে

আমেরিকায় অবৈধ ভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কার্যতসম্মুখ সমরে নামল প্রশাসন। বিভিন্নএলাকায় চলল ধরপাকড়, ধস্তাধস্তি।ফাটল কাঁদানে গ্যাসের শেল।

সংবাদ সংস্থা
শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৫ ০৬:১৮
অভিবাসী ধরপাকড়ের প্রতিবাদে মিছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে।

অভিবাসী ধরপাকড়ের প্রতিবাদে মিছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে। ছবি: রয়টার্স।

গত বছর নভেম্বরে নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবেন। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে, তাঁর এমন পদক্ষেপ ঘিরে কম জটিলতা হয়নি! বিষয়টি পৌঁছেছিল আদালতেও। অবশেষে এ বার আমেরিকায় অবৈধ ভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কার্যতসম্মুখ সমরে নামল প্রশাসন। বিভিন্নএলাকায় চলল ধরপাকড়, ধস্তাধস্তি।ফাটল কাঁদানে গ্যাসের শেল। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস।

সম্প্রতি আমেরিকার অভিবাসন এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ অভিযান চালায়। উদ্দেশ্য, দেশে অবৈধ ভাবে বসবাসকারী ভিন্‌ দেশের নাগরিকদের চিহ্নিত করা। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা। এমন অভিযানের পর এ দিন লস অ্যাঞ্জেলেসের পথে নেমেছিলেন অন্তত ৫০০ জন প্রতিবাদী। যাঁদের হাতে ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অভিবাসন-নীতি’র বিরোধী পোস্টার-ফ্লেক্স। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের তরফে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বেআইনি ঘোষণা করা হলেও, পরিস্থিতি প্রথম দিকে ছিল নিয়ন্ত্রণেই। পরিস্থিতি জটিল আকার নেয় সান দিয়েগো এবং মিনিয়াপলিসে লাতিন আমেরিকার অভিবাসীদের এলাকায় পুলিশি অভিযানের খবর সামনে আসতেই।

প্রতিবাদ মিছিল নেয় রণক্ষেত্রের চেহারা। সান দিয়েগো, মিনিয়াপলিসে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিভিন্ন সরকারি ভবনের দেওয়ালে বাহারি রং করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। করা হয় গ্রাফিতিও। এরপরই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। ব্যবহার করা হয় পেপার স্প্রেও। অভিবাসীদের হয়ে লড়াই করা সংস্থা ‘কোয়ালিশন অফ হিউম্যান রাইট্‌স’এর এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যাঞ্জেলিকা সালাস জানাচ্ছেন, সাতটি এলাকা থেকে মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারের সংখ্যাটা প্রায় ৪০। তাঁর কথায়, ‘‘যদি সংবিধানিক অধিকারকে মান্যতা দেওয়া না হয়, যদিও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণের সঠিক পদ্ধতি মানা না হয়, তা হলে যে কোনও মানুষের অধিকার খর্ব হতে বাধ্য।’’ এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জুড়ছেন, ‘‘... এ দেশ যে ভাবে চলছে, তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’

পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জখম হন আমেরিকার পশ্চিম উপকূলেরশ্রমজীবী সংগঠন ‘ইউনাইটেড সার্ভিস ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট’এর প্রেসিডেন্ট ডেভিড হুয়ের্তাও। আপাতত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর কথায়,‘‘একদল পরিশ্রমী মানুষ এবং তাঁদের পরিবার সদস্যদের সঙ্গে অপরাধীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের সকলের উচিত ন্যায়-বিচারের নামে এই যে পাগলামি চলছে, তার প্রতিবাদ করা।’’


আরও পড়ুন