US Iran Tensions

সৌদির বৃহত্তম তৈলশোধনাগারে ফের ড্রোন হামলা চালাল ইরান! তিন দিনে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার

সোমবার ড্রোন হামলা হয়েছিল সৌদির রাস তানুরা তৈলশোধনাগারে। ওই হামলার পর বুধবার ফের হামলা চলল রাস তানুরায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৯
সৌদি আরবে ইরানের হামলা।

সৌদি আরবে ইরানের হামলা। —ফাইল চিত্র।

সৌদি আরবের সরকারি তেল পরিশোধন সংস্থা ‘আরামকো’র বৃহত্তম তৈল শোধনাগারে ফের চলল হামলা। এ বারও সেই রাস তানুরা শহরেরই তৈলশোধনাগারে হামলা হয়েছে। রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাস তানুরার এই তৈলশোধনাগারটি হল সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় সরকারি শোধনাগার।

Advertisement

সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, রাস তানুরা তৈলশোধনগারে হামলার চেষ্টা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে শোধনাগারের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি বলেই জানাচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওই মুখপাত্র। গত সোমবারও সৌদির পূর্ব প্রান্তের এই তৈলশোধনাগারে ড্রোন হামলা হয়েছিল। দু’টি ড্রোন দিয়ে হামলা করা হয়েছিল সেই সময়ে। ইরান থেকে ওই ড্রোনগুলি ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি সৌদির।

গত সোমবারের হামলার পরেই রাস তানুরার শোধনাগার সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। তবে ওই হামলায় শোধনাগারের বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি সৌদি সরকারের। তাদের দাবি, শোধনাগারে হামলা করার আগেই ওই ড্রোনগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। গুলি করে নামানো হয়েছিল ড্রোনগুলিকে। ওই হামলার দু’দিন কাটতে না কাটতেই ফের হামলা চলল রাস তানুরা শোধনাগারে।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বার বার ‘আক্রান্ত’ হচ্ছে সৌদি আরব। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলার পরে প্রথম প্রত্যাঘাতই হয়েছিল সৌদিতে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে দাবি করা হয়, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনই নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন ইরানে হামলার জন্য। তিনিই আমেরিকাকে বার বার এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সামরিক পদক্ষেপ ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই।

বস্তুত, মঙ্গলবার সৌদির রাজধানী রিয়াধে ড্রোন হামলা হয়েছিল। রিয়াধে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদির মার্কিন দূতাবাস সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৌদির পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা পরিশোধনাগারটি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম তৈলশোধনাগারগুলির একটি। প্রতি দিন এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধিত হয়। সৌদির খনিজ তেল রফতানির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সেই শোধনাগার লক্ষ্য করেই গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় বার হামলা চলল।

গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তার পর থেকে তেহরানও প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়ার যে সমস্ত দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বোমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরিনের মতো দেশে।

Advertisement
আরও পড়ুন