মোজতবা খামেনেই। — ফাইল চিত্র।
ইরানে পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা হতে পারেন। সেই জল্পনা শুরু হতেই ইজ়রায়েল হুঙ্কার দিয়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন মোজতবা।
রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানের মধ্যে মোজতবার উপর হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল এবং মার্কিন যৌথ বাহিনী। তবে কোথায়, কখন হামলা চালানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। শুধু তা-ই নয়, কী ধরনের হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল এবং মার্কিন যৌথ বাহিনী, তা-ও জানানো হয়নি।
ইজ়রায়েল-মার্কিন যৌথ হামলা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর জায়গায় কে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বেশ কয়েকটি নামও আলোচনায় ছিল। তবে ইরানের এক সংবাদমাধ্যম সূত্র উল্লেখ করে জানায়, সে দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কাউন্সিলই মোজতবার নামে সিলমোহর দিয়েছে। তবে রিপোর্টের দাবি আপাতত অস্বীকার করেছে ইরান। মুম্বই স্থিত ইরানের কনসুলেট জেনারেল জানিয়েছেন, মোজতবাকে নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এসেছে তা ভিত্তিহীন।
ইরান আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে মোজতবার নাম ঘোষণা করেনি। তবে তার মধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজ়রায়েল। বুধবার ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাট্জ় জানিয়েছেন যে, পরবর্তী ধর্মীয় নেতার নাম যা-ই হোক, কিংবা তিনি যেখানেই লুকিয়ে থাকুন, তাঁকে হত্যা করা হবে। কাট্জ়ের মতে, নতুন নেতা ইজ়রায়েলের ক্ষতি করার পাশাপাশি আমেরিকাকে হুমকি দেবেন এবং ইরানের সাধারণ মানুষের উপর দমনপীড়ন চালাবেন। তাই ইরানে নতুন কোনও নেতাকে যে তাঁরা মাথা তুলতে দেবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের এই মন্ত্রী। কাট্জ়ের হুঁশিয়ারির পর পরই ইরানি সূত্র হামলার চেষ্টার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে।