— প্রতীকী চিত্র।
২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালানো এবং মারধর ও পরিবারের মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে এ বার গ্রেফতার পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি ও তাঁর ছেলে। শুক্রবার ভোর রাতে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর পুত্র শেখ আফজ়ল রহমান ওরফে সঞ্জুকে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আউশগ্রাম থানার গেঁড়াই গ্রামে আব্দুল ও আফজ়লের বাড়ি। তাঁরা কলকাতায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম থানার ভুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা এক বিজেপি কর্মী এই ঘটনার বিষয়ে গত ১৯ মে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়। অভিযোগে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি পার্টির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালে ভোটের ফল বেরনোর পর ৩ মে বেলা ১১টা নাগাদ তৃণমূল নেতা লালনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন লাঠি, রড প্রভৃতি নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়। জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়। মহিলারা বাধা দিতে গেলে তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমূলের অত্যাচারে তিনি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। হামলাকারীরা তাঁর বাড়ি লাগোয়া কাপড়ের দোকানেও হামলা চালায়। দোকান ভাঙচুর করা হয়। দোকানের জিনিসপত্র লুট করা হয়। বাড়ি ও দোকান মিলিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার জিনিস লুট করা হয়। ভয়ে তিনি দীর্ঘ দিন ঘরছাড়া ছিলেন। এ বার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত অভিযুক্তেরা এলাকায় সন্ত্রাস চালায়। ওই ব্যক্তিকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে নেমে পুলিশ ২৫ মে গৌতম আঁকুড়ে নামে ভুঁয়েড়া গ্রামের এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে। লালনের বিরুদ্ধে আউশগ্রাম থানায় ২০২৫ ও ২৬ সাল মিলিয়ে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে লালন ও তাঁর ছেলে বর্ধমানের জেলা ও দায়রা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানান। কিন্তু, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা, ৭ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র লুটপাট করা এবং এলাকায় সন্ত্রাস ছড়ানোর কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন জেলা আদালতের বিচারক।
ধৃতদের শুক্রবারই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের ১০দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতদের আইনজীবী অবশ্য গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা না মানা এবং নোটিস না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জামিন চান। সরকারি আইনজীবী অবশ্য পুলিশি হেফাজতের পক্ষে সওয়াল করেন। তা খারিজ করে দিয়ে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা এবং মামলার নথিপত্র নষ্ট না করার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
এ দিনই আউশগ্রামের ওপর একটি মামলায় লালনকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। কিন্তু, মামলার পুরো নথি না থাকার কথা উল্লেখ করে আবেদনটি নিয়মিত আদালতে পাঠানোর নিদের্শ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। আবেদনটি মঞ্জুর না হওয়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে ছাড়া পেয়ে যান লালন। এ ক্ষেত্রেও রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও ধৃতদের জামিন পাওয়া নিয়ে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “এ ধরনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মামলায় সিজেএম আদালত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তা ছাড়া জেলা আদালতের বিচারক আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন।” তার পরও পুলিশি হেফাজতের আবেদন খারিজ করে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত লালনের জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এই ধরনের অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। বিভিন্ন মামলায় বিচারকের জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ ও প্রশ্ন রয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের নজরেও বেশ কিছু মামলার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ জমা পড়েছে।