Bangladesh General Election

তারেকের সরকারকে চাপে রাখতে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী, এ বার ঘোষণা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের

তবে জামায়াত দলগত ভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে, নাকি সহযোগী দলগুলিকেও তাতে শামিল করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তাদের সহযোগী এনসিপি আগেই ছায়া মন্ত্রিসভা গড়ার কথা জানিয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৩
Bangladesh Jamaat-e-Islami to form shadow cabinet

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জামায়াত প্রধান শফিকুর রহমান (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং জাতীয় সংসদে সরকারি সিদ্ধান্তের বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (‘শ্যাডো মিনিস্ট্রি) গঠনের সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলে শুক্রবার জামায়াতের তরফে জানানো হয়েছে।

Advertisement

তবে জামায়াত দলগত ভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে, নাকি সহযোগী দলগুলিকেও তাতে শামিল করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। জামায়াতের নায়েবে আমির (সহ-সভাপতি) সৈয়দ আবদুল্লা মুহাম্মদ তাহের শুক্রবার বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। বাইরের দেশে এটি যে ভাবে ভূমিকা রাখে, বাংলাদেশেও যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’’ সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি বাংলাদেশে নতুন। তাই কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি নির্ধারণে সময় লাগছে।’’

সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে তারা পেয়েছে ২০৯টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সমাজমাধ্যমে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ লিখেছিলেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি’। তবে সহযোগী জামায়াতকে নিয়ে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছিল বাংলাদেশে। তাতে জিতেছে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব। জুলাই সনদে রয়েছে, জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ কয়েকটি বিরোধী দলের জাতীয় সংসদ সদস্যেরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নিলেও প্রধানমন্ত্রী তারেকের দল বিএনপির সংসদ সদস্যেরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে যোগ দেননি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টানাপড়েন।

Advertisement
আরও পড়ুন