বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদি। গত ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। —ফাইল চিত্র।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাহায্য চাইল বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার (ওএইচসিএইচআর)-এর দফতরে এই মর্মে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে তারা। হাদি হত্যাকাণ্ডে ‘ন্যায্য, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত’ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের সাহায্য চেয়েছে তারা।
গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সি হাদিকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাংলাদেশের ওই তরুণ নেতার। হাদির মৃত্যু ঘিরে ফের অশান্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। জায়গায় জায়গায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পুলিশ গত ডিসেম্বরে দাবি করে, হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিএসএফ। মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সাল যে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মেঘালয় পুলিশও।
গত মাসে হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ (শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক তথা মীরপুরের প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে খুন করা হয়েছে হাদিকে। কিন্তু পুলিশের এই চার্জশিট মানতে রাজি নয় হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। তাঁদের দাবি, হাদিকে হত্যার নেপথ্যে একটা চক্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত।
এরই মধ্যে রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওএইচসিএইচআর-এর কাছে কূটনৈতিক বার্তা (নোট ভার্বাল) পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাহায্য চেয়েই ওই কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানায় অন্তর্বর্তী সরকার।