মৃত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডব্লিউ। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশে বিএনপি নেতার রহস্যমৃত্যু। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুসারে) শামসুজ্জামান ডব্লিউ নামের ওই বিএনপি নেতাকে আটক করেছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একটি দল। আটক হওয়ার পরেই হাসপাতালে শামসুজ্জামানের মৃত্যু হয়। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙা জেলার বাসিন্দা শামসুজ্জামান। তিনি জেলার জীবননগর পুর এলাকার সাধারণ সম্পাদক। ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা-কর্মী এবং পুলিশের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতে জীবননগর পুর এলাকায় অভিযান চালায় সেনার একটি দল। বিএনপি নেতাকে তাঁর ওষুধের দোকান থেকে আটক করা হয়। তার পর ওই নেতা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামসুজ্জামানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ওই বিএনপি নেতার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে গভীর রাতেই এলাকায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিএনপি-র নেতা-কর্মীরা। হাসপাতালের সামনের রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিএনপি-র জেলা সভাপতি তথা বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে চুয়াডাঙা-২ কেন্দ্রের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, “অভিযানের নামে সেনাবাহিনী বেছে বেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের নামে নির্যাতন করার পরও যখন অস্ত্রশস্ত্র পায় না, লাঠিসোঁটা, এটা–ওটা দিয়ে চালান দেয়। সেই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে, সহ্য করতে না-পেরে শামসুজ্জামান ডব্লিউ মারা গিয়েছেন।” সেনাবাহিনীর তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, শামসুজ্জামান হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।