Murder Case of Indian Family in US

আলমারিতে লুকিয়ে পুলিশকে ফোন! আমেরিকায় স্ত্রী ও তিন আত্মীয়ের হত্যাকারী বিজয়কে ধরিয়ে দিল নাবালক পুত্রই

জর্জিয়ার লরেন্সভিল সিটির ব্রুক আইভি কোর্ট এলাকার শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ (স্থানীয় সময়) যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে তখন বাড়িতে ছিল বিজয়-মিমু এবং তাঁদের আত্মীয়দের তিন সন্তান। পুলিশ জানিয়েছে, বিজয়ের হাত থেকে বাঁচতে তিন জনই লুকিয়ে পড়ে আলমারির মধ্যে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫০
Chilling details came out in death of Indian family by man in US

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত বিজয় কুমারের সঙ্গে স্ত্রী স্ত্রী মিমু ডোগরা (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বাবার হাতে বন্দুক। পর পর গুলি করেন মা এবং তিন আত্মীয়কে। চোখের সামনে এমনই দৃশ্য দেখল ১২ বছরের পুত্র। মা এবং অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে বাবার অশান্তি শুরু হতেই আলমারিতে লুকিয়ে পড়ে সে। সঙ্গে ছিল তারই বয়সি আরও দু’জন। আলমারির ফাঁক দিয়ে বাবাকে খুন করতে দেখে ওই নাবালক ফোন করে ৯১১ নম্বরে। সেই ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। আর তার ফলে প্রাণে বাঁচল তিন নাবালক। আমেরিকার জর্জিয়ায় চার ভারতীয়ের খুনের ঘটনায় প্রকাশ্যে এল এই তথ্য।

Advertisement

শুক্রবার গভীর রাতে (স্থানীয় সময়) এক আত্মীয়ের বাড়িতে খুন হন মিমু ডোগরা। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় গৌরব কুমার, নিধি চন্দ্র এবং হরিশ চন্দ্র নামে তিন জনের দেহ। চার জনকেই গুলি করে খুন করেন মিমুর স্বামী বিজয় কুমার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক কোনও বিবাদের জেরে এই হত্যাকাণ্ড। তবে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত বিজয়কে জেরা করে আসল তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় পুলিশ।

জর্জিয়ার লরেন্সভিল সিটির ব্রুক আইভি কোর্ট এলাকায় শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ (স্থানীয় সময়) যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে তখন বাড়িতে ছিল বিজয়-মিমু এবং তাঁদের আত্মীয়দের তিন সন্তান। পুলিশ জানিয়েছে, বিজয়ের হাত থেকে বাঁচতে তিন জনই লুকিয়ে পড়ে আলমারির মধ্যে। আলমারির ভেতরে ‘বন্দি’ অবস্থায় তাদের মধ্যে এক জন সোজা ফোন করে পুলিশে।

ফোনে খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বাড়িতে ঢুকে চার জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিজয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁরা রাতে ওই বাড়ি থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। তার পরে পর পর গুলির শব্দ। সেই শব্দে সকলে বেরিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশও এসে পৌঁছোয় ঘটনাস্থলে।

ফক্স ৫ আটলান্টা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট ডিগ্রি খুনের মামলাও। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর আটলান্টায় ভারতের কনসুলেট জেনারেল দুঃখপ্রকাশ করে ওই পরিবারকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ভারতের কনসুলেট জেনারেলের পোস্টে পারিবারিক বিবাদ এবং বিজয়কে গ্রেফতারের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। তবে শুধুই পারিবারিক বিবাদের জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন