Iran Protest

খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ২০০০! দেশ জুড়ে বন্ধ ইন্টারনেট, কী পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ার দেশে

মঙ্গলবার ইরানের সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রের দাবি, আদতে মৃতের সংখ্যা ৬০০০ পেরিয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৩
বিক্ষোভে উত্তাল ইরান।

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি: রয়টার্স।

ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়াল! বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও। ইরানের সরকারি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ২০০০ পেরিয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েক জন নাবালক।

Advertisement

ইরানে বিক্ষোভ তীব্রতর হতেই কড়া হাতে দমনপীড়ন শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবারই নরওয়ের সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছিল, এখনও পর্যন্ত ন’জন নাবালক-সহ মোট ৬৪৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গিয়েছে। তবে মঙ্গলবার ইরানের সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০০০ জনের। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রের দাবি, সংখ্যাটা আদতে ৬০০০-এরও বেশি। চলমান বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, বিশ্বে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী নেটব্লক্‌স জানিয়েছে, গত প্রায় চার দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় বন্ধ। কোথাও কোথাও খুব মন্থর গতিতে পরিষেবা মিলছে। মঙ্গলবার দেশের কোনও কোনও প্রান্ত থেকে আন্তর্জাতিক ফোন করা গেলেও নেট পরিষেবা এখনও চালু হয়নি। দেশজোড়া এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট-এর জেরে ইরানের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীর অনুমান, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০,০০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

নেট পরিষেবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সংবাদসংস্থা এএফপি-র একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তেহরানের দক্ষিণে একটি মর্গের বাইরে কয়েক ডজন বেওয়ারিশ মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। তার মাঝেই প্রিয়জনের খোঁজে হাতড়ে বেড়াচ্ছেন আত্মীয়স্বজনেরা। এই ছবি দেখে আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা ইরানে উড়ান পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এ হেন পরিস্থিতিতে সোমবারই সে দেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে আমেরিকা। তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে ইরান ছাড়ুন। কোন দুই দেশ হয়ে ইরান ছাড়া যাবে, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সতর্কবার্তায়।

গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত। ওই দিন তেহরানের দোকানিরা প্রথম মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে সেই বিক্ষোভের আঁচ। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমে দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নেয়। খামেনেইয়ের অপসারণ চেয়ে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর হয় প্রশাসনও। বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হতে থাকে। প্রায় ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এখনও উত্তাল পশ্চিম এশিয়ার দেশ।

Advertisement
আরও পড়ুন