Advertisement
E-Paper

নতুন বছরের শুরুতেই বিক্ষোভে উত্তাল ইরান! সংঘর্ষে নিহত ৭, কেন ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ?

গত সপ্তাহখানেক ধরে বিক্ষোভ ক্রমশ দানা বেঁধেছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা ছাড়াও রয়েছেন এক নিরাপত্তাকর্মী। আহত অন্তত ২০ জন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫১
তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত।

তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত। ছবি: সংগৃহীত।

নতুন বছরের শুরুতেই অশান্ত ইরান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহখানেক ধরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা ছাড়াও রয়েছেন এক নিরাপত্তাকর্মী। আহত অন্তত ২০ জন। বিক্ষোভ দমাতে ধরপাকড়ও শুরু হয়েছে। অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভের সূত্রপাত গত ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন তেহরানের দোকানিরা প্রথম মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। লোর্ডেগান, কুহদাশত এবং ইসফাহান-সহ একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা তেহরানের রাস্তায় নেমে পড়েন। স্লোগান ওঠে, ‘স্বৈরশাসন নিপাত যাক’। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের সময় ক্ষমতাচ্যুত শাসক শাহ মহম্মদ রেজ়া পাহলভির পুত্র রেজ়া পাহলভির সমর্থনেও স্লোগান ওঠে— ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোন’। সেই খবর পেয়ে সমাজমাধ্যমে ইরানের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন মুলুকে নির্বাসিত রেজ়া পাহলভি। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘‘যত দিন এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকবে। আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। জয় আমাদের হবেই, কারণ আমাদের দাবি ন্যায্য।’’

গত এক সপ্তাহ জুড়ে ইরানের রাস্তায় নিরাপত্তাবাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর-এর সংবাদসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বুধবার দু’জন এবং বৃহস্পতিবার পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। লোর্ডেগানে দু’জন, কুহদাশতে এক জন এবং ইসফাহান প্রদেশে এক জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কেরমানশাহ, খুজেস্তান এবং হামেদান প্রদেশেও চলছে বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার আজ়না শহরে তিন জন মারা গিয়েছেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এক সদস্যও আছেন নিহতদের মধ্যে। আহত কমপক্ষে ২০ জন। লোর্ডেগান শহরে প্রশাসনিক ভবনে পাথর ছোড়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাজার-হাট। আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে রাস্তায় রাস্তায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মূল্যবৃদ্ধি, খরা, নারী অধিকার, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পর্কিত একের পর এক বিক্ষোভ কড়া হাতে দমন করেছে ইরান সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপে বেঁধে ফেলা হয়েছে গোটা দেশকে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে নির্বিচারে ধরপাকড়ও চলেছে। তবে তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশে। সঙ্গে গত জুন মাসে ইজ়রায়েলি এবং মার্কিন বিমানহামলার পর থেকে চাপে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক পরিকাঠামোও। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ সবের পাশাপাশি পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের জেরে গত বছর থেকে প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। পরিস্থিতি এমনই যে, ডিসেম্বরে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ৪২.৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবির ‘বৈধতা’ স্বীকার করে নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। তবে পেজেশকিয়ান এও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়ন রুখতে তাঁর এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই। উল্লেখ্য, ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। তবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়েও দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট।

Iran Ayatollah Ali Khamenei Tehran Protest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy