(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নেওয়ার জন্য তৈরি রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বার নিজেই সেই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। রাশিয়ার তরফে এই প্রস্তাব নতুন নয়। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ খোলার পরই এই প্রস্তাব দেয় মস্কো। বলা হয়েছিল, যে কোনও শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিতে তৈরি আছে তারা। তবে সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়নি আমেরিকা।
আমেরিকা-ইরানের শান্তি আলোচনার পথে অন্যতম ‘কাঁটা’ হয়ে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড। ট্রাম্পের সন্দেহ, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। শান্তি চুক্তির জন্য ইরানকে নিজেদের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে হবে, সেই শর্তও দিয়েছে আমেরিকা। যদিও ওই শর্ত মানতে রাজি নয় তেহরান। ইরানের দাবি, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তি আলোচনার জট কাটাতে পদক্ষেপ করতে চায় ইরানের অন্যতম ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ রাশিয়া। জানায়, ইরানের কাছে মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (যা পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান) তারা নিয়ে নিতে তৈরি আছে।
দু’সপ্তাহ আগেই ইরানের ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গে এই প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। তবে পরে ক্রেমলিন জানায়, তাদের প্রস্তাবে সায় দেয়নি আমেরিকা। এ অবস্থায় বুধবার ট্রাম্প এবং পুতিনের ফোনে কথা হয়। সেখানে ইরান বনাম ইজ়রায়েল-আমেরিকার সংঘর্ষ এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ওই ফোনালাপ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, “তিনি আমাকে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার বিষয়টি তাঁরা যুক্ত হতে চান। তিনি এ বিষয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারেন কি না, তা-ও জানতে চান।” তবে এই প্রস্তাবে যে আমেরিকার সায় নেই, সে কথাও পুতিনকে পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, “আমি ওঁকে বললাম, আপনি বরং ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর বিষয়টি নিয়ে বসুন। আমি সেটাই চাইব। আমার কাছে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
অন্য দিকে, ক্রেমলিনও জানিয়েছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার। ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ঘিরে দু’দেশের মতবিরোধ দূর করতে বেশ কিছু প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া। তবে পুতিন কী কী প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ। তবে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা যে কারও জন্যই ভাল হবে না, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। কোনও ধরনের সংঘাত বাধলে তার পরিণতি ভয়ানক হবে বলেও জানিয়েছে তারা।