মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমেছে। এই শান্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির মূল চাবিকাঠি হল আমেরিকাকে ‘সম্মান’ করা। ইরান আমেরিকাকে কতটা সম্মান করছে, তার উপরেই সবটা নির্ভর করছে বলে মনে করেন তিনি।
আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরাতে ইতিমধ্যে একটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এখনও বাকি। এ অবস্থায় সোমবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, “আমি ‘ভয়’ শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না। কারণ, এই শব্দটি ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ওরা (ইরান) যতদিন আমাদের সম্মান করবে, তত দিন কোনও সমস্যা হবে না।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার পর হরমুজ় প্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ে। বর্তমান শান্তি সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পুনরায় অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার কথা। শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান তথা সে দেশের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফ সোমবার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত পরিচালনা করবে ইরানই। তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে তা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সুইৎজ়ারল্যান্ড থেকে ফেরার পথে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আশা করি আমরা প্রণালীটি আবার সচল করতে পারব। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকেও ফের সমৃদ্ধ করতে পারব বলে মনে করি।” উল্লেখ্য, সুইৎজ়ারল্যান্ডে প্রাথমিক বৈঠকের পরে ইরানকে বেশ কিছু ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ও তহবিল মুক্ত করার বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন।
তবে আমেরিকা চাইছে মুক্ত হওয়া তহবিল শুধুমাত্র আমেরিকার কাছ থেকে খাদ্যশস্য কিনতেই খরচ করবে ইরান। কিন্তু এই প্রস্তাবে প্রাথমিক ভাবে রাজি নয় তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর আব্দুলনাসের হেম্মাতির দাবি, বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার কাছ থেকে কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য নয় ইরান। মুক্ত হওয়া সম্পদ যে শুধু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কিনতেই ব্যয় হবে, এমন কোনও কথা চুক্তিতে নেই বলেই দাবি করেন তিনি। এ অবস্থায় ইরানকে ফের এক বার সতর্ক করে দিলেন ট্রাম্প। ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন যখন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং স্পিকার গালিবাফ ওমানে গিয়েছেন। শান্তি আলোচনা নিয়ে ওমানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা আরাঘচিদের। তার আগে পরিস্থিতি নিয়ে তেহরানকে সতর্ক করে দিল আমেরিকা।