Donald Trump on Greenland Crisis

‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখল করব না’, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি, আর কী বললেন?

সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন, আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশ গ্রিনল্যান্ডকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা পারবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৭
দাভোসে ট্রাম্পের বক্তৃতা।

দাভোসে ট্রাম্পের বক্তৃতা। ছবি: রয়টার্স।

তাঁর নির্দেশে মার্কিন ফৌজ গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারে বলে আশঙ্কা ইউরোপ জুড়ে। তিনি স্বয়ং একাধিক বার তেমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু বুধবার ইউরোপের দেশ সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! কিন্তু সেই সঙ্গেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গ্রিনল্যান্ডকে ‘আমাদের অঞ্চল’ বলে চিহ্নিত করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের দাবি ছাড়বে না ওয়াশিংটন।

Advertisement

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প বলেন, ‘‘মানুষ ভেবেছিলেন আমি বলপ্রয়োগ করব! কিন্তু আমাকে বলপ্রয়োগ করতে হবে না। আমি বলপ্রয়োগ করতে চাই না। আমি বলপ্রয়োগ করব না।’’ কিন্তু সেই সঙ্গেই তাঁর সতর্কবার্তা— ‘‘আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশ ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত ওই ভূখণ্ড (গ্রিনল্যান্ড) সুরক্ষিত রাখতে পারবে না।’’ এই পরিস্থিতিতে ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ’ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনা শুরু করার সওয়াল করেছেন তিনি। এই আলোচনার আহ্বানকে ট্রাম্প-সুলভ ভাষায় চিহ্নিত করেছেন, ‘বরফের টুকরো সম্পর্কে ছোট অনুরোধ’ বলে। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘আমরা বিশ্ব সুরক্ষার জন্য এক টুকরো বরফ চাই, এবং তারা তা দেবে না।’’

ডেনমার্কের ‘সুরক্ষা-সংকটের’ উল্লেখ করে ট্রাম্প আদতে রাশিয়া এবং চিনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বলে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার গ্রিনল্যান্ড-বিতর্কে রাশিয়াকে টেনে এনেছিলেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ডে রুশ আগ্রাসনের ঝুঁকি নিয়ে ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে সাবধান করে যাচ্ছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো। তার পরেও ডেনমার্ক এই বিষয়ে কিছুই করতে পারেনি।’’ মঙ্গলবার রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভেরফ বলেন, গ্রিনল্যান্ড প্রকৃতিগত ভাবে ডেনমার্কের অংশ নয়।’’ পাশাপাশি, ট্রাম্পের অভিযোগ নস্যাৎ করে তাঁর মন্তব্য, “গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে রাশিয়ার কোনও আগ্রহ নেই। ওয়াশিংটনও জানে এই দ্বীপ অধিগ্রহণ করার কোনও পরিকল্পনা মস্কোর নেই।’’

দাভোসে ট্রাম্পের বক্তৃতায় এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজ়া প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘‘ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে আমার বৃহস্পতিবার কথা হতে চলেছে। আমি আশাবাদী, যুদ্ধবিরতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি সম্পাদনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি আমরা।’’ প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড গাজ়ার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসকে অস্ত্র ছাড়তে হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে আমেরিকার মেরিল্যান্ড থেকে দাভোসের উদ্দেশে ওড়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই আবার ফিরে গিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান। হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র কারণে মঙ্গলবার রাতে ওড়ার কিছুক্ষণ পরে মেরিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রিউতে ফিরে যায় বিমানটি। এর পরে বুধবার বেলায় তিনি দাভোসে পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। তবে, দেরিতে পৌঁছোনোর কারণে সময়সূচি পিছিয়ে দিতে হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন