(পিছনে) দেবেন্দ্র ফডণবীস) এবং (সামনে বাঁদিক থেকে) রাজ ঠাকরে, একনাথ শিন্দে, উদ্ধব ঠাকরে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দুই এনসিপির (শরদ পওয়ার এবং অজিত পওয়ার গোষ্ঠী) পরে এ বার কি মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ হতে চলেছে দুই শিবসেনা? বুধবার উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের পুত্র তথা শিবসেনা সাংসদ শ্রীকান্ত ঘোষণা করেছেন কল্যাণ-ডোম্বিবলী পুরসভায় মেয়র পদ দখল করতে রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার সঙ্গে হাত মেলাবেন তাঁরা। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র কয়েক জন নবনির্বাচিত কর্পোরেটর ইতিমধ্যেই তাঁদের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে শ্রীকান্তের দাবি।
ঘটনাচক্রে, শিন্দেসেনা তাদের সহযোগী দল বিজেপিকে ঠেকাতেই হাত মেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ঠাকরে ভাইদের সঙ্গে। ১২২ আসনের কল্যাণ-ডোম্বিবলী পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১২টি আসন। শিন্দেসেনা ৫৩, বিজেপি ৫০, উদ্ধবসেনা ১১ এবং এমএনএস ৫টি আসনে জিতেছে। এ ছাড়া কংগ্রেস ২ এবং এনসিপি ১টিতে। মেয়র পদ ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোট ‘মহাজুটি’র দুই শরিকের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। তার মধ্যেই বুধবার আচমকা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রীকান্ত। আর তার পরেই তৈরি হয়েছে ‘অন্য’ জল্পনা। এমএনএস পত্রপাঠ শিন্দেসেনাকে সমর্থনের ঘোষণা করলেও উদ্ধব এখনও ‘হাতের তাস’ দেখাননি। তবে তাঁর শিবিবের নেতা সঞ্জয় রাউথ বিজেপিকে ঠেকাতে বৃহত্তর সমঝোতার কথা বলেছেন।
সূত্রের খবর, কল্যাণ-ডোম্বিবলীর পাশাপাশি বৃহন্মুম্বই পুরসভা নিয়েও তিন সেনার গোপন আলোচনা চলছে। সেখানে ১৭ বছরের তিক্ততা ভুলে ভোটের আগেই বিজেপিকে ঠেকাতে জোট বেঁধেছিলেন রাজ-উদ্ধব। ২২৭ ওয়ার্ডের বৃহন্মুম্বই পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৪টি আসন। বিজেপি ৮৯ এবং শিন্দেসেনা ২৯টিতে জিতেছে। অর্থাৎ দু’দলের মোট আসনসংখ্যা ১১৮— ‘জাদুসংখ্যার’ চেয়ে মাত্র চারটি বেশি। এই পরিস্থিতিতে ৬৫টি আসনে জেতা শিবাসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ‘মরাঠি শিবসেনা মেয়রের’ কথা বলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছেন। অঙ্ক বলছে, শিন্দে-উদ্ধব হাত মেলালে তুতোভাই রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার ৬, কংগ্রেসের ২৪ এবং অন্য ছোট দলগুলির সাহায্যে অনায়াসে মুম্বাইয়ে বিজেপির ক্ষমতা দখল রুখতে পারবে। মুম্বইতেও মেয়র পদ নিয়ে শিন্দেসেনা-বিজেপির টানাপড়েন চলছে।
২০২২ সালের জুলাই মাসে শিন্দেকে সামনে রেখেই উদ্ধবের শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়েছিল বিজেপি। শিন্দেকে মুখ্যমন্ত্রী করে সরকার গড়েছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’-কে হারিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে তারা। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল হয়েছে। একনাথের বদলে বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীস মুখ্যমন্ত্রী হন আর একনাথ পান উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ। যা নিয়ে শিন্দে-অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল সেই সময়। এ বার শিন্দের প্রত্যাঘাতের পালা বলে মনে করছেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে ফড়ণবীস সরকারের ভিতও নড়ে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। ২০২২ সালের ভাঙনের পরে নির্বাচন কমিশন শিন্দেগোষ্ঠীকেই ‘প্রকৃত শিবসেনা’র মর্যাদা দিয়েছিল। দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘তির-ধনুক’ ব্যবহারের অধিকারও পেয়েছিলেন শিন্দে। কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদ্ধব শিবিরের দায়ের করা আবেদন নিয়ে বুধবার থেকে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই এসেছে মরাঠি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের বার্তা।