Donald Trump-Elon Musk

ইলন মাস্কের ডিগবাজি! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করে মন্তব্যের জন্য এ বার ‘অনুতাপ’ প্রকাশ করলেন

‘সুন্দর বিল’কে কেন্দ্র করে শুরু হয় ট্রাম্প-মাস্ক দ্বৈরথ। গত কয়েক দিন ধরে কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছিলেন মাস্ক। এ বার ডিগবাজি খেয়ে অনুতাপ প্রকাশ করলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৫ ১৩:৫৫
Elon Musk expresses regret for comments targeting US President Donald Trump

(বাঁ দিকে) স্পেসএক্স, টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ফোঁস’ করার পর এ বার ডিগবাজি ধনকুবের ইলন মাস্কের। ‘বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি’ বলে ঘুরিয়ে চেয়ে নিলেন ক্ষমাও। সম্প্রতি ট্রাম্প-মাস্ক বাগ্‌যুদ্ধ নিয়ে সরগরম ছিল বিশ্ব। দু’দিন আগে পর্যন্তও ট্রাম্পের বিরোধিতা করে সমাজমাধ্যম ভরিয়ে দিয়েছিলেন মাস্ক। এ বার ডিগবাজি খেয়ে ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টায় নামলেন টেসলা-কর্তা।

Advertisement

বুধবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে এক্স হ্যান্ডলে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মাস্ক লেখেন, ‘‘ট্রাম্পকে নিয়ে করা কিছু পোস্টের জন্য অনুতপ্ত! বিষয়টা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।’’ ‘সুন্দর বিল’কে কেন্দ্র করে শুরু হয় ট্রাম্প-মাস্ক দ্বৈরথ। যে মাস্ককে কিছু দিন আগে জড়িয়ে ধরেছিলেন ট্রাম্প, যাঁর জন্য হোয়াইট হাউসে গড়ে দিয়েছিলেন আলাদা দফতর, সেই তিনিই হয়ে উঠেছিলেন তাঁর সরকারের পথে অন্যতম ‘কাঁটা’। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প নিজের মুখেই জানান, মাস্কের সঙ্গে তাঁর সব সম্পর্ক শেষ! মাস্কও থেমে থাকেননি। সুর চড়িয়েছেন তাঁর একদা বন্ধুর বিরুদ্ধেই। তবে এ বার সেই মাস্কের সুর যেন বেশ কিছুটা নরম।

ট্রাম্প-মাস্কের বিরোধের সূত্রপাত একটি বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করার পর থেকেই। ট্রাম্প নিজেই সেটিকে ব্যাখ্যা করেছেন ‘বড় ও সুন্দর বিল’ হিসাবে। কিন্তু সেই বিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাস্ক। তাঁর আশঙ্কা, সরকারি দক্ষতা বিষয়ক দফতর (ডিওজিই) এত দিন যে কাজ করে আসছিল, তা ব্যর্থ হবে! শুধু আশঙ্কাপ্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি মাস্ক। ডিওজিই থেকে ইস্তফাও দেন।

ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিয়ে একের পর এক পোস্ট করেন মাস্ক। এ-ও বলতে শোনা গিয়েছে, তিনি যদি সাহায্য না করতেন, তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যেতেন ট্রাম্প। ‘বড় বোমা’ ফেলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মাস্ক। তিনি দাবি করেছিলেন, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ফাইলে নাম রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। যদিও পরে সেই পোস্ট সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেন মাস্ক নিজেই। যদিও ট্রাম্প-মাস্কের সম্পর্কে কেন এই ‘ইউ টার্ন’? গলায়-গলায় বন্ধুত্ব কেন কাদা ছোড়াছুড়িতে পর্যবসিত হল? তা নিয়ে চর্চা থামেনি। সেই আলোচনার মধ্যেই নিজের ‘অনুতাপ’ প্রকাশ করলেন টেসলা-কর্তা। অনেকে মনে করছেন, এই ঘটনা ট্রাম্প-মাস্ক ‘যুদ্ধ’ শেষের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে কেউ কেউ আবার এ-ও মনে করছেন, ‘ভয়’ পেয়েই আবার ডিগবাজি খেলেন মাস্ক। ঘটনাচক্রে, ট্রাম্প-মাস্ক তিক্ততার পরই টেসলার শেয়ার পড়তে শুরু করে।

Advertisement
আরও পড়ুন