Donald Trump on Greenland Issue

ইউরোপের আট ‘বন্ধু’র উপর কেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প? শুল্ক ১০ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশও হতে পারে? বিতর্কে মুখ খুললেন রাষ্ট্রনেতারা

ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাষ্ট্রনেতারা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৪
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

গ্রিনল্যান্ডের দখল নিয়ে আমেরিকাকে সমর্থন না-করায় ইউরোপের দেশগুলির উপর আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শনিবার তিনি ঘোষণা করে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর বিরোধিতা করা আটটি দেশের উপর আমেরিকা ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে চলেছে। সেই সঙ্গে আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। যে আটটি দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প পদক্ষেপ করলেন, তারা প্রত্যেকেই নেটো-র সদস্য। আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্কও যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ট্রাম্প কাউকে রেয়াত করেননি।

Advertisement

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাষ্ট্রনেতারা। আট দেশের তালিকায় রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস্‌। এই সমস্ত দেশ থেকে যে সব পণ্য আমেরিকায় রফতানি করা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তার উপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হতে পারে ২৫ শতাংশ। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতা না-হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। তাঁর কথায়, ‘‘নেটোর বন্ধুদের সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের উপরেই শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। আমরা আমেরিকার প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করব।’’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ আরও কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ‘‘এই প্রসঙ্গে শুল্কের হুমকি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কোনও চাপের মুখে নতিস্বীকার করব না।’’ সুইডেনও চুপ করে নেই। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী উল্‌ফ ক্রিস্টারসন বলেন, ‘‘আমরা আমাদের এ ভাবে ব্ল্যাকমেল করতে দেব না। ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে সুইডেন আলোচনা করছে। নরওয়ে, ব্রিটেনের সঙ্গে যৌথ ভাবে আমরা পদক্ষেপ করব।’’

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রীও। দাবি, এই শুল্কের ঘোষণা শুনে তিনি বিস্মিত। জার্মানির নেতা তথা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর প্রধান ম্যানফ্রেড ওয়েবার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত গত বছরের আমেরিকা-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখনও সেই চুক্তি অনুমোদিত হয়নি।

ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের বিদেশ ও প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার। বাকি অভ্যন্তরীণ বিষয় স্বায়ত্তশাসনের অধীনে। আমেরিকার দাবি, ভবিষ্যতে রাশিয়া এবং চিন থেকেই আমেরিকার মাটিতে আকাশপথে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই আশঙ্কা দূর করতেই গ্রিনল্যান্ডের দখল চায় ট্রাম্প প্রশাসন। ইউরোপের দেশগুলি তার বিরোধিতা করাতেই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

Advertisement
আরও পড়ুন