Iran-Israel Situation

সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে

যুদ্ধের আঁচ যে উপসাগরীয় এলাকাগুলির উপরে পড়ছে, তার প্রমাণ আগেও মিলেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে যা শুনছি, তা থেকে জানা যাচ্ছে যে, ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল জোড়া হামলা শুরু করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় এলাকার আরব দেশগুলিতে ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

রুমি গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৩
বুধবার ফের জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল দুবাইয়ে।

বুধবার ফের জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল দুবাইয়ে। —ফাইল চিত্র।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপরে ইরানের হামলা অনেক বেড়ে গিয়েছে। মুহুর্মুহু এসে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। অবশ্য তার বেশির ভাগই এখানকার জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র-রোধী ব্যবস্থা মোকাবিলা করতে সমর্থ হচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনযাপন এখনও মোটামুটি স্বাভাবিক। কিন্তু তবু সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে।

বুধবার ফের জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল দুবাইয়ে। যুদ্ধের আঁচ যে উপসাগরীয় এলাকাগুলির উপরে পড়ছে, তার প্রমাণ আগেও মিলেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে যা শুনছি, তা থেকে জানা যাচ্ছে যে, ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল জোড়া হামলা শুরু করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় এলাকার আরব দেশগুলিতে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। তবে কাতারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে, কাতার এয়ারওয়েজ়ের পাঁচটি বিমানে করে অন্তত ১৬০০ জন ভারতীয় নাগরিক নিজেদের দেশের ফিরেছেন মঙ্গলবার। পাঁচটির মধ্যে দু’টি বিমান দিল্লিতে অবতরণ করেছে। একটি করে বিমান গিয়েছে মুম্বই, কোচি এবং তিরুঅনন্তপুরমে। বিভিন্ন সূত্র থেকে যা জানতে পারলাম, তাতে মনে হচ্ছে, অন্তত দু’লক্ষ মানুষ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন শহর থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।

দুবাই ও আবু ধাবির প্রশাসন প্রথম থেকেই খুব সুষ্ঠু ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করছিল। বারবার সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল যে, তাঁরা যেন আতঙ্কিত না হন, পরিস্থিতির উপরে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, ইরানের হামলা তত বেড়েই চলেছে। বারবার ফোনে ‘রেড অ্যালার্ট’ আসছে। গতকাল রাতে কেউ কেউ দু’বার সতর্কবার্তা পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ তিন বারও। আগে রেড অ্যালার্ট জারি হলেও মাঝআকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার শব্দ তেমন পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন সমানে গুমগুম করে আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। মাঝেমাঝে তো এমন জোরে আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে যে মনে হচ্ছে, বাড়ির ঠিক পাশেই বুঝি বা ড্রোন এসে পড়ল! দুবাইয়ে বেশির ভাগ বাড়িতে কাচের জানলা। ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে ঝনঝন করে কেঁপে উঠছে বাড়ির কাচের জানলাগুলি। দুবাইয়ে অনেক লেবাননের মানুষ থাকেন। তাঁরা অনেক কাছ থেকে যুদ্ধ দেখেছেন। তাঁদেরই কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন, জানলার কাচ বাঁচাতে সেগুলি টেপ দিয়ে আটকে দিতে। অধিকাংশ বাড়িতে তা-ই করা হচ্ছে।

দুবাইয়ের বাসিন্দারা কখনও ভাবেননি যে তাঁরা এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন। এখানে বাঙ্কারের কোনও ব্যবস্থা নেই। যাঁদের বাড়িতে বেসমেন্ট আছে, সতর্কবার্তা পেলে তাঁরা সেখানেই আশ্রয় নিচ্ছেন। রাতটা বেসমেন্টেই কাটাচ্ছেন। অনেক স্কুলই তাদের ‘স্প্রিং ব্রেক’-এর ছুটি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছু স্কুল আবার ঘোষণা করেছে, ইদের পরে স্কুল খুললে ক্লাস হবে অনলাইনে।

অনেকেই এখন চেষ্টা করছেন, ভারতে ফিরে যেতে। কিন্তু একটা বড় সমস্যা পরিবারের পোষ্যেরা। এখানে অনেক বাড়িতেই পোষ্য থাকে। কিন্তু শুনেছি, এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়া কোনও উড়ানেই পোষ্যদের নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। এই অবলা জীবদের কী ভাবে এখানে রেখে যাওয়া হবে, সেই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন অনেকেই।

ক’দিন পরেই ইদ। অন্য বছর এই সময়ে এখানে একটা খুশির পরিবেশ থাকে। অনেকেই বেড়াতে যায়। কিন্তু এ বছর সেই উৎসবের রেশ কোথায়।

কত দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে আমরা।

আরও পড়ুন